বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা আসে, তবে ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি সকল রাজনৈতিক দল এই দাবি থেকে সরেও যায়, প্রয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণের দ্বারে দ্বারে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পল্টন জোনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘চব্বিশের বিপ্লব’ এক মাস বা এক বছরে সংঘটিত হয়নি, বরং দীর্ঘ এক যুগের লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাধনার ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে। তার মতে, ‘চব্বিশের ভিত্তি’ ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে রচিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আলেম সমাজ রক্ত দিয়ে এদেশের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্দোলন এবং দীর্ঘ কারাবরণের পথ পেরিয়েই জুলাই এসেছে। স্কুল-মাদ্রাসার বিভাজন ভুলে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সনদ স্বাক্ষরের পূর্বমুহূর্তে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশের মাধ্যমে ‘অন্তহীন প্রতারণা’ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যখন সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের জন্য একত্রিত হয়, তখন সবার অগোচরে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। যেখানে বলা হয়, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এই বিষয়টি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জুলাই যোদ্ধা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল অবগত ছিল না। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার কথা ছিল।
রিপোর্টারের নাম 






















