আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই খসড়া উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে থাকা মানুষের কষ্ট লাঘবে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা, কৃষিখাতে ভর্তুকি এবং অভিভাবকদের ব্যয় কমাতে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের ব্যয়ের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের পাশাপাশি মিতব্যয়িতা অবলম্বনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারি অর্থ অপচয় রোধ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে এই বাজেটে।
আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় একটি অংশ আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করের পরিধি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও ক্রমবর্ধমান বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়নে বদ্ধপরিকর সরকার।
রিপোর্টারের নাম 























