ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে প্রস্রাব পানে বাধ্য করার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

ভারতের ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় এক নারীর ওপর স্বামীর চরম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে, মাথা ন্যাড়া করে, মুখে কালি ও ইঞ্জিন অয়েল মেখে নির্মমভাবে মারধর করেছে। শুধু তাই নয়, সন্তানদের সামনেই তাকে জোরপূর্বক প্রস্রাব পান করাতে বাধ্য করা হয়েছে এবং এই ভয়াবহ ঘটনায় সন্তানদেরও অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে জিতেন্দ্র ঘাসিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং সংসার চালানোর জন্য গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুন স্বামী জিতেন্দ্র তাকে খুঁজে বের করেন যেখানে তিনি এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই ডেকে নিয়ে গিয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বাইরে ডেকে এনে গালাগাল ও চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পর হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার চুল কেটে মাথা ন্যাড়া করে, মুখে কালি ও তেল মেখে দেওয়া হয়, মারধর করা হয় এবং তাকে প্রস্রাব পান করাতে বাধ্য করা হয়। এমনকি তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

নারীর দাবি, এই নির্মম ঘটনার সময় তাদের সন্তানদেরও ব্যবহার করা হয়েছে। সন্তানদের দিয়ে মাকে চড় মারানো হয় এবং এক সন্তানকে দিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপমানজনক কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্তকে স্ত্রীকে চরিত্র নিয়ে অভিযুক্ত করতে শোনা যায়। তার দাবি, স্ত্রী আগে তার আত্মীয়দের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সংসার ছেড়ে অন্য সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। তবে ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সন্দেহ করা হতো এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমাকে সন্দেহ করা হতো। দাম্পত্য নির্যাতন চলছিল। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই।’

প্রাথমিকভাবে নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে, যার মধ্যে ছিল স্বামীর নির্যাতন, ইচ্ছাকৃত আঘাত, অশ্লীল আচরণ এবং ফৌজদারি হুমকি সংক্রান্ত ধারা। পরে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে প্রস্রাব পানে বাধ্য করার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ভারতের ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় এক নারীর ওপর স্বামীর চরম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে, মাথা ন্যাড়া করে, মুখে কালি ও ইঞ্জিন অয়েল মেখে নির্মমভাবে মারধর করেছে। শুধু তাই নয়, সন্তানদের সামনেই তাকে জোরপূর্বক প্রস্রাব পান করাতে বাধ্য করা হয়েছে এবং এই ভয়াবহ ঘটনায় সন্তানদেরও অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে জিতেন্দ্র ঘাসিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং সংসার চালানোর জন্য গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুন স্বামী জিতেন্দ্র তাকে খুঁজে বের করেন যেখানে তিনি এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই ডেকে নিয়ে গিয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বাইরে ডেকে এনে গালাগাল ও চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পর হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার চুল কেটে মাথা ন্যাড়া করে, মুখে কালি ও তেল মেখে দেওয়া হয়, মারধর করা হয় এবং তাকে প্রস্রাব পান করাতে বাধ্য করা হয়। এমনকি তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

নারীর দাবি, এই নির্মম ঘটনার সময় তাদের সন্তানদেরও ব্যবহার করা হয়েছে। সন্তানদের দিয়ে মাকে চড় মারানো হয় এবং এক সন্তানকে দিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপমানজনক কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিডিও ফুটেজে অভিযুক্তকে স্ত্রীকে চরিত্র নিয়ে অভিযুক্ত করতে শোনা যায়। তার দাবি, স্ত্রী আগে তার আত্মীয়দের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সংসার ছেড়ে অন্য সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। তবে ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সন্দেহ করা হতো এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমাকে সন্দেহ করা হতো। দাম্পত্য নির্যাতন চলছিল। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চাই।’

প্রাথমিকভাবে নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে, যার মধ্যে ছিল স্বামীর নির্যাতন, ইচ্ছাকৃত আঘাত, অশ্লীল আচরণ এবং ফৌজদারি হুমকি সংক্রান্ত ধারা। পরে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে।