ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জামায়াত আমিরের

দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনোই গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতে পারে না। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশ হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ছাব্বিশে একটি নির্বাচন হয়েছে। চব্বিশ না হলে বাংলাদেশে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের সরকার ও বিরোধী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের যদি উপহাস করা হয়, তাহলে তা নিজেদের সঙ্গেই গাদ্দারির সামিল হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় জামায়াতের অবস্থান ছিল গণভোটের পক্ষে। কিন্তু তৎকালীন সরকার নীরব থেকে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল এবং পরে জনরোষের মুখে পড়ে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে নির্বাচনের পর গণভোটে অংশ নেওয়া ৬৭.৮ শতাংশ মানুষের রায়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে ৬৫ বিধিতে আলোচনা করেছিলাম, যাতে গণভোট হারিয়ে না যায় এবং এর প্রতি সম্মান দেখানো হয়। যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতে পারে না। এখনো সময় আছে, গণভোটের পক্ষে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।’

সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য পরিবর্তন এবং জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসানোর মাধ্যমে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। তিনি এই ধরনের পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনোই গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতে পারে না। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশ হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ছাব্বিশে একটি নির্বাচন হয়েছে। চব্বিশ না হলে বাংলাদেশে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের সরকার ও বিরোধী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের যদি উপহাস করা হয়, তাহলে তা নিজেদের সঙ্গেই গাদ্দারির সামিল হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় জামায়াতের অবস্থান ছিল গণভোটের পক্ষে। কিন্তু তৎকালীন সরকার নীরব থেকে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল এবং পরে জনরোষের মুখে পড়ে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে নির্বাচনের পর গণভোটে অংশ নেওয়া ৬৭.৮ শতাংশ মানুষের রায়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে ৬৫ বিধিতে আলোচনা করেছিলাম, যাতে গণভোট হারিয়ে না যায় এবং এর প্রতি সম্মান দেখানো হয়। যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতে পারে না। এখনো সময় আছে, গণভোটের পক্ষে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।’

সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য পরিবর্তন এবং জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসানোর মাধ্যমে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। তিনি এই ধরনের পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকার।