মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে। আমেরিকার প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সময়মতো অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহে সমস্যার কারণে আরব রাষ্ট্রগুলো আঙ্কারার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার পর তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এতে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এসব দেশের কাছে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ইরানের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরানের ড্রোনগুলো উন্নত রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো তুরস্কের সঙ্গে তাদের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি আরব রাষ্ট্র তুর্কি অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা ও চুক্তি সম্পন্ন করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, তারা শুধু নতুন প্রযুক্তিই নয়, অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক বাহিনী কী ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ দেশ ওমানও অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র প্রদর্শনী ‘সাহা এক্সপো’-তে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, যেখানে ইরাকের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল সাবাহ তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যে তুর্কি সরকারের সঙ্গে একটি প্রোটোকলে সই করেছেন। কুয়েত বিশেষ করে তুরস্কের বায়কার কোম্পানির তৈরি ‘বায়রাক্তার আকিনচি’ ড্রোন এবং ‘হিসার’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী। হিসার ব্যবস্থা স্বল্প ও মাঝারি উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর। এর আগেও ২০২৩ সালে কুয়েত তুরস্কের কাছ থেকে বায়রাক্তার টিবি-২ ড্রোন কিনেছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























