ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সচল থাকার তথ্য ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এমন দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন মূল্যায়নে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তৈরি করা এই মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, হরমুজ প্রণালি বরাবর ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিরই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে ফিরে এসেছে। এর ফলে এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন রণতরি এবং তেলের ট্যাঙ্কারগুলো এখন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান এই ঘাঁটিগুলোর ভেতরে থাকা মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে অথবা সরাসরি নির্দিষ্ট লঞ্চপ্যাড থেকে নিক্ষেপ করতে পারে। বর্তমানে মাত্র ৩টি ঘাঁটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বল্প পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে আংশিক বা পূর্ণমাত্রায় সচল বলে জানানো হয়েছে।

এই তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গত কয়েক মাসের প্রকাশ্য আশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘নিশ্চিহ্ন’ এবং তারা আর কোনো হুমকি নয়। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এবং পেন্টাগন মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘ভার্চুয়াল দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, এক মাসব্যাপী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ইরানকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্র, যেমন টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে ফেলেছে। এই ঘাটতি পূরণে কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সচল থাকার তথ্য ফাঁস

আপডেট সময় : ১২:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এমন দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন মূল্যায়নে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তৈরি করা এই মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, হরমুজ প্রণালি বরাবর ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিরই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে ফিরে এসেছে। এর ফলে এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন রণতরি এবং তেলের ট্যাঙ্কারগুলো এখন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান এই ঘাঁটিগুলোর ভেতরে থাকা মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে অথবা সরাসরি নির্দিষ্ট লঞ্চপ্যাড থেকে নিক্ষেপ করতে পারে। বর্তমানে মাত্র ৩টি ঘাঁটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বল্প পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে আংশিক বা পূর্ণমাত্রায় সচল বলে জানানো হয়েছে।

এই তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গত কয়েক মাসের প্রকাশ্য আশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘নিশ্চিহ্ন’ এবং তারা আর কোনো হুমকি নয়। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এবং পেন্টাগন মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘ভার্চুয়াল দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, এক মাসব্যাপী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ইরানকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্র, যেমন টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে ফেলেছে। এই ঘাটতি পূরণে কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।