ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের ২৮৮ কোটি টাকার লোকসান, খেলাপি ঋণ ও মূলধন সংকট

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ভয়াবহ আর্থিক চাপে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকট—সব মিলিয়ে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির প্রকাশিত প্রাইস সেনসিটিভ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৯ পয়সা।

ব্যাংকটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ বা ঋণ থেকে আয় কমে যাওয়া, আমানতের বিপরীতে ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি—এই তিন কারণেই ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। ব্যাংকটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের ৫১ শতাংশই খেলাপি, যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একক কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই এখন ইসলামী ব্যাংকের দখলে।

ব্যাংকটির অডিট রিপোর্টে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মন্দ ঋণের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু, বাস্তবে রাখা হয়েছে মাত্র সাত হাজার ৯২২ কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। নিরীক্ষকদের মতে, এই ঘাটতি পূর্ণাঙ্গভাবে সমন্বয় করা হলে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আরও ভয়াবহ আকারে সামনে আসতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদকে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংকের ২৮৮ কোটি টাকার লোকসান, খেলাপি ঋণ ও মূলধন সংকট

আপডেট সময় : ১১:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ভয়াবহ আর্থিক চাপে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকট—সব মিলিয়ে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির প্রকাশিত প্রাইস সেনসিটিভ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৭৯ পয়সা।

ব্যাংকটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ বা ঋণ থেকে আয় কমে যাওয়া, আমানতের বিপরীতে ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি—এই তিন কারণেই ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। ব্যাংকটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের ৫১ শতাংশই খেলাপি, যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একক কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই এখন ইসলামী ব্যাংকের দখলে।

ব্যাংকটির অডিট রিপোর্টে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মন্দ ঋণের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু, বাস্তবে রাখা হয়েছে মাত্র সাত হাজার ৯২২ কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। নিরীক্ষকদের মতে, এই ঘাটতি পূর্ণাঙ্গভাবে সমন্বয় করা হলে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আরও ভয়াবহ আকারে সামনে আসতো।