ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা, তবু কমেছে ৭১ হাজার মেট্রিক টন

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। দেশ-বিদেশে এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় বছরে মূলত তিন বার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময়ে জেলেরা বেকার হয়ে পড়েন এবং অনেকে দুঃখ-কষ্টে জীবনযাপন করেন। প্রশ্ন উঠেছে, আসলে নিষেধাজ্ঞার ফলে কতটা বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন।

ইলিশ গবেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ফলে দেশের নদী ও সাগরে গত দুই দশকে ইলিশ আহরণের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ। এসব মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, ফলে উৎপাদন বেড়েছে এবং আগের চেয়ে মাছের ওজন ও আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই বছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৭১ হাজার মেট্রিক টন কমেছে, যদিও সামগ্রিকভাবে দুই দশকে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা পালিত হয়। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার সময়কে ভিত্তি করে সাধারণত অক্টোবর মাসে সারা দেশে মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। ২০২৫ সালে এটি ছিল ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় মা ইলিশ নদী ও মোহনায় ডিম ছাড়তে আসে এবং মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তারা নিরাপদে বংশবিস্তার করতে পারে।

জাটকা সংরক্ষণে আট মাস নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী ২৫ সেন্টিমিটারের (১০ ইঞ্চি) কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ বা জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে ছোট মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পায়।

সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকে। বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার জাটকা রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা নদীর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় এবং পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই পরিপত্রে জাটকা ও ইলিশ নিধন ছাড়াও এগুলো বিক্রি, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ও ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রম, বঙ্গোপসাগরে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং এই সময়ে জেলেদের সচেতনতা ও সরকারি প্রণোদনা প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা, তবু কমেছে ৭১ হাজার মেট্রিক টন

আপডেট সময় : ১০:৩৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। দেশ-বিদেশে এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় বছরে মূলত তিন বার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময়ে জেলেরা বেকার হয়ে পড়েন এবং অনেকে দুঃখ-কষ্টে জীবনযাপন করেন। প্রশ্ন উঠেছে, আসলে নিষেধাজ্ঞার ফলে কতটা বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন।

ইলিশ গবেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ফলে দেশের নদী ও সাগরে গত দুই দশকে ইলিশ আহরণের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ। এসব মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, ফলে উৎপাদন বেড়েছে এবং আগের চেয়ে মাছের ওজন ও আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই বছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৭১ হাজার মেট্রিক টন কমেছে, যদিও সামগ্রিকভাবে দুই দশকে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা পালিত হয়। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার সময়কে ভিত্তি করে সাধারণত অক্টোবর মাসে সারা দেশে মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। ২০২৫ সালে এটি ছিল ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় মা ইলিশ নদী ও মোহনায় ডিম ছাড়তে আসে এবং মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তারা নিরাপদে বংশবিস্তার করতে পারে।

জাটকা সংরক্ষণে আট মাস নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী ২৫ সেন্টিমিটারের (১০ ইঞ্চি) কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ বা জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে ছোট মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পায়।

সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকে। বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার জাটকা রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা নদীর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় এবং পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই পরিপত্রে জাটকা ও ইলিশ নিধন ছাড়াও এগুলো বিক্রি, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ও ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রম, বঙ্গোপসাগরে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং এই সময়ে জেলেদের সচেতনতা ও সরকারি প্রণোদনা প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।