আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে নিহত নজরুল ইসলাম মল্লিকের চাচা হাবিবুর রহমান মল্লিক বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার ভাতিজা নজরুল ইসলাম মল্লিককে দাফনের পর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বাড়িতে এসেছিলেন এবং তারা তাকে জানিয়েছেন যে, র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন হাবিবুর রহমান। তার জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো তাকে জেরা করেন। জেরার সময় আইনজীবী টিটো সাক্ষীর এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন যে, সাক্ষী তার জবানবন্দিতে জিয়াউলের নাম উল্লেখ করেননি এবং এটি তদন্ত কর্মকর্তার শেখানো কথা। জবাবে হাবিবুর রহমান জানান, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসতেন এবং তারা জানিয়েছেন যে, নজরুলকে হত্যা করেছে র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান।
মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে, এই তারিখ নির্ধারণে আপত্তি জানান জিয়াউলের বোন ও তার আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, অন্যান্য মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের পর দীর্ঘ সময় দেওয়া হলেও তার ভাইয়ের মামলায় কেন দ্রুত তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে। তিনি তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানান।
প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর উদয় তাসমির বলেন যে, সাক্ষী আনতে দেরি হলে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন সাক্ষী আনা হচ্ছে না, আবার নিয়মিত আনতে গেলে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন এত সাক্ষী আনা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল পূর্বনির্ধারিত তারিখ অপরিবর্তিত রেখে এজলাস ত্যাগ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























