ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর জবানবন্দি: ‘হাঁটুর পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে বেরিয়ে যায়’

রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অষ্টম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ হওয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জুম্মান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি জানান, কীভাবে বিজিবি কর্মকর্তার গুলিতে তার হাঁটু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে জবানবন্দি দেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, আমি ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শুরু থেকেই আমি সক্রিয়ভাবে অংশ নিই। ১৮ জুলাই মালিবাগ-রামপুরা রোডে আবুল হোটেলের সামনে আন্দোলনে যোগ দিই। সকাল ১০টার দিকে ছররা গুলিতে আহত হই। পরদিন, ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর আমরা প্রায় হাজারখানেক ছাত্র-জনতা রামপুরা বাজারের দিকে অবস্থান নিই। সে সময় রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান নেয় এবং তারা অনবরত রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়েও গুলি ছুড়ছিল। আমার সামনেই কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়, একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমরা কয়েকজন আহতদের রামপুরা ওয়াপদা রোডে স্থাপিত রেড ক্রিসেন্টের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে নিয়ে যাই।

মেহেদী হাসান আরও জানান, পরে শুনতে পাই, তাদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছিল। আহতদের ক্যাম্পে রেখে আমি পুনরায় আন্দোলনে যোগ দিই। আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে রামপুরা ডেল্টা হাসপাতালের সামনে অবস্থানকালে বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে আমি গুলিবিদ্ধ হই। একটি গুলি আমার ডান পায়ের হাঁটুর একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলির চিহ্ন এখনো বিদ্যমান। এই ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে আমার নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বর্তমানে আমাকে সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কয়েকজন আমাকে রেড ক্রিসেন্টের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আমাকে বাড্ডা এএমজেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে ভর্তি করেনি। ওই দিন রাতেই আমি হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাই। সেখানে আমার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক ব্যয় নিয়ে মতবিরোধে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর জবানবন্দি: ‘হাঁটুর পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে বেরিয়ে যায়’

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অষ্টম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ হওয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জুম্মান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি জানান, কীভাবে বিজিবি কর্মকর্তার গুলিতে তার হাঁটু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে জবানবন্দি দেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, আমি ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শুরু থেকেই আমি সক্রিয়ভাবে অংশ নিই। ১৮ জুলাই মালিবাগ-রামপুরা রোডে আবুল হোটেলের সামনে আন্দোলনে যোগ দিই। সকাল ১০টার দিকে ছররা গুলিতে আহত হই। পরদিন, ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর আমরা প্রায় হাজারখানেক ছাত্র-জনতা রামপুরা বাজারের দিকে অবস্থান নিই। সে সময় রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান নেয় এবং তারা অনবরত রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়েও গুলি ছুড়ছিল। আমার সামনেই কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়, একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমরা কয়েকজন আহতদের রামপুরা ওয়াপদা রোডে স্থাপিত রেড ক্রিসেন্টের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে নিয়ে যাই।

মেহেদী হাসান আরও জানান, পরে শুনতে পাই, তাদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছিল। আহতদের ক্যাম্পে রেখে আমি পুনরায় আন্দোলনে যোগ দিই। আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে রামপুরা ডেল্টা হাসপাতালের সামনে অবস্থানকালে বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে আমি গুলিবিদ্ধ হই। একটি গুলি আমার ডান পায়ের হাঁটুর একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলির চিহ্ন এখনো বিদ্যমান। এই ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে আমার নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বর্তমানে আমাকে সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কয়েকজন আমাকে রেড ক্রিসেন্টের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আমাকে বাড্ডা এএমজেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে ভর্তি করেনি। ওই দিন রাতেই আমি হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাই। সেখানে আমার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়।