ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যাত্রাবাড়ীর হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা: পুলিশ কর্তৃক রেজিস্টার ও সিসিটিভি সার্ভার জব্দ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘জুলাই বিপ্লবে’ পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলার ২৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন যাত্রাবাড়ীর কাজলা অনাবিল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আবু মুসা আহমেদ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

আবু মুসা তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের’ সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকায় অনাবিল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কাজলা ও এর আশপাশ এলাকা থেকে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ রোগী তাঁদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১৯ ও ২০ জুলাই সর্বাধিক সংখ্যক গুলিবিদ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় রিসিপশন ও ডাক্তারের চেম্বারেও আহত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতেন।

আবু মুসা আরও জানান, গত ২৩ জুলাই যখন হাসপাতালে নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল, তখন বিকেলবেলা সিভিল পোশাকে যাত্রাবাড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এসে রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার নিয়ে যায়। এই রেজিস্টার খাতায় কতজন আহত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল।

তিনি জানান, আগত পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা তা প্রকাশ করেননি; বরং মুখে মাস্ক পরা ছিল। ওইদিন পুলিশ সদস্যরা রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি সার্ভারসহ তাঁকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যায়। থানায় তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, থানার অফিসার এসআই জাকির ও মামুন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিল। তারা জানতে চেয়েছিল কতজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দিলে হাসপাতালের ক্ষতি হবে বলেও জানায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: পেনশনের সাথে গ্র্যাচুইটি সুবিধা

যাত্রাবাড়ীর হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা: পুলিশ কর্তৃক রেজিস্টার ও সিসিটিভি সার্ভার জব্দ

আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘জুলাই বিপ্লবে’ পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলার ২৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন যাত্রাবাড়ীর কাজলা অনাবিল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আবু মুসা আহমেদ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

আবু মুসা তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের’ সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকায় অনাবিল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কাজলা ও এর আশপাশ এলাকা থেকে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ রোগী তাঁদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১৯ ও ২০ জুলাই সর্বাধিক সংখ্যক গুলিবিদ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় রিসিপশন ও ডাক্তারের চেম্বারেও আহত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতেন।

আবু মুসা আরও জানান, গত ২৩ জুলাই যখন হাসপাতালে নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল, তখন বিকেলবেলা সিভিল পোশাকে যাত্রাবাড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এসে রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার নিয়ে যায়। এই রেজিস্টার খাতায় কতজন আহত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল।

তিনি জানান, আগত পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা তা প্রকাশ করেননি; বরং মুখে মাস্ক পরা ছিল। ওইদিন পুলিশ সদস্যরা রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি সার্ভারসহ তাঁকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যায়। থানায় তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, থানার অফিসার এসআই জাকির ও মামুন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিল। তারা জানতে চেয়েছিল কতজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দিলে হাসপাতালের ক্ষতি হবে বলেও জানায়।