ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ হ্রাস: ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার প্রস্তাব

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার তুলনায় ১৭৫ কোটি টাকা কম। তবে ২০১৪ সালের ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্ষমতায়নকে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে।

দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে, যা তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ভিজিডব্লিউবি (ভার্নারেবল উইম্যান বেনিফিট) কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন আরও জোরদার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল বিশ্বকাপের লড়াই শুরু আজ, চোখ এখন ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধে

নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ হ্রাস: ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৭:১৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার তুলনায় ১৭৫ কোটি টাকা কম। তবে ২০১৪ সালের ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্ষমতায়নকে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে।

দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে, যা তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ভিজিডব্লিউবি (ভার্নারেবল উইম্যান বেনিফিট) কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন আরও জোরদার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হবে।