ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের চার যুবককে রাশিয়ায় সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রির অভিযোগ: মানবপাচার মামলা দায়ের

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চার যুবককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সহযোগী যুব সংগঠনের দুই নেতা ও পৌর জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পাটগ্রাম থানায় চার দফায় মানবপাচার মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ওই চার যুবকের পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, লালমনিরহাট জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুব বিভাগের বহিস্কৃত সভাপতি ইউনুস আলী, পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি সোহেল রানা উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি সাড়ে নয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরিবারগুলোর দাবি, ঢাকা উত্তরায় অবস্থিত আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এজেন্সির মাধ্যমে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়।

চাকরির নামে প্রতারিত যুবকদের নাম হলো: টেপুরগাড়ী এলাকার দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ (২১), রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২১), আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২০) এবং আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২)। গত ৮ মে সকালে তারা মস্কোর বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। পরবর্তীতে রুশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ সময় তারা জানতে পারেন যে, চাকরির পরিবর্তে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যুবকরা একটি সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানায় এবং বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠায়।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইউনুস ও মাহিনকে জামায়াতের উপজেলা ও পৌর যুব বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ইউনুস আলী অবশ্য বলেছেন যে, তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়েই রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দুই দেশের দূতাবাসেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সবাইকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ শোয়াইব আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কোনো দায় নেই এবং এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে, সংগঠনটি ঘটনা জানার পর অভিযুক্ত দুজনকে অব্যাহতি দিয়েছে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে চার যুবককে বিক্রির অভিযোগে থানায় চারটি মানবপাচার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক ব্যয় নিয়ে মতবিরোধে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

লালমনিরহাটের চার যুবককে রাশিয়ায় সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রির অভিযোগ: মানবপাচার মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চার যুবককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সহযোগী যুব সংগঠনের দুই নেতা ও পৌর জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পাটগ্রাম থানায় চার দফায় মানবপাচার মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ওই চার যুবকের পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, লালমনিরহাট জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুব বিভাগের বহিস্কৃত সভাপতি ইউনুস আলী, পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি সোহেল রানা উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি সাড়ে নয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরিবারগুলোর দাবি, ঢাকা উত্তরায় অবস্থিত আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এজেন্সির মাধ্যমে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়।

চাকরির নামে প্রতারিত যুবকদের নাম হলো: টেপুরগাড়ী এলাকার দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ (২১), রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২১), আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২০) এবং আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২)। গত ৮ মে সকালে তারা মস্কোর বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। পরবর্তীতে রুশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ সময় তারা জানতে পারেন যে, চাকরির পরিবর্তে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যুবকরা একটি সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানায় এবং বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠায়।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইউনুস ও মাহিনকে জামায়াতের উপজেলা ও পৌর যুব বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ইউনুস আলী অবশ্য বলেছেন যে, তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়েই রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দুই দেশের দূতাবাসেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সবাইকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ শোয়াইব আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কোনো দায় নেই এবং এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে, সংগঠনটি ঘটনা জানার পর অভিযুক্ত দুজনকে অব্যাহতি দিয়েছে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে চার যুবককে বিক্রির অভিযোগে থানায় চারটি মানবপাচার মামলা দায়ের করা হয়েছে।