ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২.৫% প্রণোদনা অব্যাহত, শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির অধীনে বিভিন্ন খাত-ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি করা হয়েছে।

বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে, যা প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এই রেমিট্যান্সের প্রবাহকে তিনি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে যে সকল খাতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর জন্য খাত-ভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব: জিডিপির ১.০১ শতাংশ

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২.৫% প্রণোদনা অব্যাহত, শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির অধীনে বিভিন্ন খাত-ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি করা হয়েছে।

বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে, যা প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এই রেমিট্যান্সের প্রবাহকে তিনি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে যে সকল খাতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর জন্য খাত-ভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু হয়েছে।