নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণায় অভূতপূর্ব কঠোরতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৈরি আচরণ বিধিমালার নতুন খসড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বুধবার রাতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই খসড়া প্রস্তাবনাটি জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত অপব্যবহার রোধ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খসড়া বিধিমালার বেশ কয়েকটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বিধি ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক নির্বাচনী প্রচারণায় অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এডিট করা কোনো কন্টেন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ক্ষতিকর, উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য ছড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য কারো চেহারা বিকৃত বা চরিত্র হরণ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ডিজিটাল প্রচারণার শুরুতেই প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আইডি ও ইমেইল রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এছাড়াও, সরকারের কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। তারা তাদের সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনী কোনো কর্মকাণ্ড যুক্ত করতে পারবেন না এবং সরকারি যানবাহন বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না। বর্তমান কোনো চেয়ারম্যান বা মেয়র প্রার্থী না হলে তিনিও প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারে শব্দদূষণ রোধে মাইকের শব্দমাত্রা নির্ধারণ এবং প্রচারণার সময়সীমার ওপরও কঠোর সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি।
রিপোর্টারের নাম 



















