দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ প্রবাহ সচল রাখতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু এই উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদার করার মাধ্যমে এ খাতের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রয়োজনে এসব ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করার উপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই খাতকে পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড বাজার ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 























