প্রবাসী বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করতে এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের উপর আড়াই শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন খাতগুলোর জন্য বিশেষায়িত কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার উপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এই ধারাকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির অধীনে বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি করা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবীদের প্রতি যেকোনো প্রকার সহিংসতা বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হবে। তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করা হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে। শিশুশ্রম বন্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, প্রবাসী জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করছে।
রিপোর্টারের নাম 



















