রাজধানী ঢাকায় যানবাহন চুরির ঘটনা এখন নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে অন্তত ৩৬৬টি যানবাহন চুরির মামলা হচ্ছে, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে একটি করে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চুরি হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই চুরির সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়, কারণ অনেক ভুক্তভোগীই হয়রানির ভয়ে থানায় অভিযোগ বা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। চোরচক্র এতটাই প্রশিক্ষিত যে, মাত্র ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে তারা ‘মাস্টার কি’ ব্যবহার করে যেকোনো যানবাহনের লক খুলে নিয়ে চম্পট দিতে সক্ষম। এমনকি রাজধানীর অন্যতম নিরাপদ এলাকা বারিধারা ডিওএইচএস এবং খোদ ভাটারা থানার ভেতর থেকে পুলিশের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরচক্রের মূল লক্ষ্য থাকে আবাসিক এলাকা, শপিংমল সংলগ্ন পার্কিং এবং রাস্তার পাশে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল। গত ১৩ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি চুরির শিকার হচ্ছে মোটরসাইকেল। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যমতে, ঢাকায় অন্তত ১০টি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবুল কালাম আজাদ। প্রায় ২০ বছর ধরে সক্রিয় এই চক্রটির নেটওয়ার্ক সারাদেশে বিস্তৃত এবং তাদের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য চক্রের নেতা হিসেবে মাদারীপুরের জসিম উদ্দিনের নাম উঠে এসেছে। এই চক্রগুলো গাড়ি চুরির পরপরই সেগুলোর নম্বরপ্লেট ও কাগজপত্র জাল করে ফেলে অথবা দ্রুত ঢাকার বাইরে নিয়ে যন্ত্রাংশ খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে চুরির মোটরসাইকেলগুলো ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিগত এক বছরে ঢাকা মহানগর পুলিশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসেই গড়ে ৩০টির মতো চুরির মামলা হয়েছে এবং প্রায় ৩০০-এর বেশি চোরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত যানবাহনের সংখ্যা মামলার তুলনায় অনেক কম। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিবি’র আটটি বিভাগ বর্তমানে চোরাই গাড়ি উদ্ধারে এবং চক্রগুলোকে নির্মূল করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগতভাবে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ডিএমপি’র পক্ষ থেকেও নাগরিকদের সম্পদ রক্ষায় অধিকতর সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















