ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ইরান-মার্কিন উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য ৩৫ বছর পর সবচেয়ে বড় সংকটে

ইরান-মার্কিন সংঘাত এখন এক বিপজ্জনক অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে উভয় পক্ষের একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের অভাব। ইরানের বিশ্বাস, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আকস্মিক হামলা চালানোর আগে কেবল সময়ক্ষেপণ করছেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকার কারণে ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি নয়। তাই, যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও, সার্বিকভাবে পরিস্থিতি অত্যন্ত অসন্তোষজনক।

হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সামান্য কিছু নৌযান চলাচল ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ইরানের গানবোটগুলো এই প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তাদের বাহিনী ইরানের বন্দরে আসা-যাওয়া করা ২০টিরও বেশি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এর সামগ্রিক ফলাফল ইরান এবং বিশ্ব অর্থনীতি উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হচ্ছে।

এই অচলাবস্থা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব তত খারাপ হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি তত বাড়বে। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারে এবং ইরান তার প্রতিবেশী আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর উপসাগরীয় অঞ্চল এমন ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙন, গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা

ইরান-মার্কিন উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য ৩৫ বছর পর সবচেয়ে বড় সংকটে

আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-মার্কিন সংঘাত এখন এক বিপজ্জনক অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে উভয় পক্ষের একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের অভাব। ইরানের বিশ্বাস, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আকস্মিক হামলা চালানোর আগে কেবল সময়ক্ষেপণ করছেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকার কারণে ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি নয়। তাই, যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও, সার্বিকভাবে পরিস্থিতি অত্যন্ত অসন্তোষজনক।

হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সামান্য কিছু নৌযান চলাচল ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ইরানের গানবোটগুলো এই প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তাদের বাহিনী ইরানের বন্দরে আসা-যাওয়া করা ২০টিরও বেশি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এর সামগ্রিক ফলাফল ইরান এবং বিশ্ব অর্থনীতি উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হচ্ছে।

এই অচলাবস্থা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব তত খারাপ হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি তত বাড়বে। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারে এবং ইরান তার প্রতিবেশী আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর উপসাগরীয় অঞ্চল এমন ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়নি।