জামালপুর শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেখানকার আটটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রাজীবপুর এলাকার হাজারো মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, পরিচ্ছন্নতা সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই সরকারি হাসপাতাল এড়িয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা জেলা শহরের হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, অর্থোপেডিকস ও চক্ষু বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ২০টি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য কারণে বেশিরভাগ সময় ছুটিতে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই এবং কেউ কেউ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত এই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ড, বারান্দা ও টয়লেট অপরিচ্ছন্ন। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদই শূন্য। আয়ার দুটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক রাউন্ড দেন। ওষুধ সরবরাহ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও তদারকি সবসময় পাওয়া যায় না। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























