ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙন, গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন পানি বাড়লেও বর্তমানে তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে পানি কমলেও জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা কৃষি নির্ভর চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, তিস্তা নদীর পানি ২৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁধ এবং তীরবর্তী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

সাঘাটা উপজেলায় ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় যমুনা তীরবর্তী মুন্সিরহাট এলাকার মানুষ প্রকল্পটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। কাজের ধীরগতির কারণে এবারও বন্যায় প্রকল্পটির সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে ব্যবহৃত জিও ব্যাগ, সিসি ব্লক, জিও ম্যাট এবং বালু নিম্নমানের হওয়ায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার লোকজন জানান, প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে মুন্সিরহাট বাজার, মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শত শত বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষায় সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় চারটি প্যাকেজে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এ ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১১ দশমিক ৫১ মিটার, প্যাকেজ-২ এ ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২৭ মিটার, প্যাকেজ-৩ এ ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ মিটার এবং প্যাকেজ-৪ এ ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে ভারী ও টেকসই সিসি ব্লক ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙন, গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙন, গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা

আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন পানি বাড়লেও বর্তমানে তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে পানি কমলেও জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা কৃষি নির্ভর চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, তিস্তা নদীর পানি ২৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁধ এবং তীরবর্তী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

সাঘাটা উপজেলায় ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় যমুনা তীরবর্তী মুন্সিরহাট এলাকার মানুষ প্রকল্পটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। কাজের ধীরগতির কারণে এবারও বন্যায় প্রকল্পটির সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে ব্যবহৃত জিও ব্যাগ, সিসি ব্লক, জিও ম্যাট এবং বালু নিম্নমানের হওয়ায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার লোকজন জানান, প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে মুন্সিরহাট বাজার, মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শত শত বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষায় সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় চারটি প্যাকেজে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এ ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১১ দশমিক ৫১ মিটার, প্যাকেজ-২ এ ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২৭ মিটার, প্যাকেজ-৩ এ ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ মিটার এবং প্যাকেজ-৪ এ ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে ভারী ও টেকসই সিসি ব্লক ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে।