মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে দেশটির জান্তা বাহিনী। বুধবার (১ জুলাই) দিন ও রাতে থেমে থেমে চালানো এই হামলার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দে অনেক জায়গায় বাড়িঘর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ সানা উল্লাহ জানান, সীমান্তের ওপারে রাখাইনের মংডু শহর এলাকায় বিমান হামলার সময় বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে ঘরের ভেতরে থাকতেও ভয় লাগছিল।
টেকনাফ সদরের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, বুধবার রাত ৯টার পর মংডু এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে তাদের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মংডুতে নতুন করে সংঘর্ষ ও বিমান হামলার কারণে টেকনাফ সদর, সাবরাং এবং শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় দিন-রাতজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আর কোনো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মংডু এলাকায় বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের সময়ও উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে একই ধরনের আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















