কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার বেতন বন্ধ রয়েছে টানা দুই বছর ধরে। এই দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে গত শনিবার তার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, ফলে প্রাণে বেঁচে যায় ছেলেটি।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা ঘিলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে গত ১০ বছর ধরে কর্মরত। তিনি জানান, চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে থাকার সময় ভুলক্রমে সেখানকার দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় ভোটার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিজ গ্রামের ঠিকানায় নতুন করে ভোটার হওয়ার পর ২০১৭ সালে তিনি আগের এনআইডি বাতিলের জন্য আবেদন করেন।
বিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা অনলাইনে গ্রহণ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকেই তার এনআইডি জটিলতার কারণে বেতন বন্ধ হয়ে যায়। তিনি এনআইডি সংশোধনের জন্য পরপর তিনবার আবেদন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। তবে, দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এই সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।
দুই সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই শিক্ষিকা। অভাবের তাড়নায় তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে এফটিএম চৌধুরী নূ-মীম মানসিক চাপে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তিনি জানান। এই পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চৌধুরী আজিজুর রহমান জানান, বিষয়টি তারা আগে জানতে পারেননি। তিনি আশ্বাস দেন, এনআইডি সংশোধন হলে শিক্ষিকা নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাচন অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, আগের এনআইডি বাতিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 


















