ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিল সরকার

চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে সরকার তার বাজেট ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যেখানে মূল বাজেটে এই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তিতে প্রত্যাশার চেয়ে কম অগ্রগতি এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি – এই তিন প্রধান কারণ সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তুলেছে। জানা গেছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ প্রায় ২৭.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার সমান। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ সাত হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটের ব্যয় সাধারণত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে ব্যাংক থেকে এই অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ১১ মাস ২৩ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতিও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে এই স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত তা বেড়ে এক লাখ আট হাজার ১৭১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে, এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙন, গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিল সরকার

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে সরকার তার বাজেট ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যেখানে মূল বাজেটে এই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তিতে প্রত্যাশার চেয়ে কম অগ্রগতি এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি – এই তিন প্রধান কারণ সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তুলেছে। জানা গেছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ প্রায় ২৭.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার সমান। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ সাত হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটের ব্যয় সাধারণত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে ব্যাংক থেকে এই অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ১১ মাস ২৩ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতিও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে এই স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত তা বেড়ে এক লাখ আট হাজার ১৭১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে, এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।