ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াতের দাবি গণভোটেই ‘বিরোধ’ নিষ্পত্তি হোক, বিএনপি চায় সংসদের ম্যান্ডেট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দল গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদকে’ আইনি ভিত্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই সনদের সংস্কার প্রস্তাবে বেশ কিছু ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়ে গেছে। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন কি না, রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাসহ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। অন্যান্য দলেরও বিভিন্ন ইস্যুতে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী চাইছে গণভোটেই এই সব আপত্তির সমাধান হোক। তারা প্রস্তাব করছে, জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে আপত্তি আছে, সেগুলোর ওপর জনগণের আলাদা মতামত নেওয়া হোক। অর্থাৎ, জনগণের মতামত নিয়েই আপত্তির বিষয়গুলো বাতিল বা গ্রহণ করা হোক।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বাংলানিউজকে বলেন, “এগুলো (নোট অব ডিসেন্ট) নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ কোনো দলেরটা তো বড় না, জনগণের মতটাই বড়।” তিনি আরও বলেন, যদি কোনো আপত্তি গণভোটে পাস হয়, তবে সেটাই বাস্তবায়ন হবে। যদি জনগণ তাদের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ না করে, তবে সেটির আর আইনি গুরুত্ব থাকবে না—গণভোটই হবে সুপ্রিম ল’। আযাদের মতে, ঐকমত্য কমিশন ঠিক করবে, কীভাবে এই আপত্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

অন্যদিকে বিএনপি চাইছে ভিন্ন পথ। তাদের মতে, নোট অব ডিসেন্টের ওপর আলাদাভাবে মতামত নেওয়ার দরকার নেই। সনদটি যেভাবে আছে, সেভাবেই গণভোট হবে। এই আপত্তিগুলো জনগণের সামনে উন্মুক্ত থাকবে, এরপর সংসদ নির্বাচনে যেই দল জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, সেই দল তাদের আপত্তি অনুযায়ী সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর হওয়ার পর এটি সব দলের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশন তা প্রকাশ করবে। তিনি বলেন, “যেগুলো নোট অব ডিসেন্ট আছে ওইটাও সনদে উল্লেখ আছে— যে সমস্ত দল ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক (নির্বাচনে) জনম্যান্ডেট পাবে সে সমস্ত দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুসারে যেতে পারবে।” তার মতে, জনগণ রায় দেবে জুলাই সনদের বিষয়ে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নয়।

গত রোববার (৫ অক্টোবর) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে গণভোটের বিষয়ে দলগুলো একমত হলেও, সংস্কার প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট), গণভোটের সময় এবং গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া (অধ্যাদেশ নাকি সাংবিধানিক আদেশ জারি করা হবে) এসব নিয়ে এখনো কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়নি। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে বুধবার (৮ অক্টোবর) রাজনৈতিক দলগুলো আবারও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক মাসেই ৯ বার কাঁপল বাংলাদেশ: ঘন ঘন ভূমিকম্পে বাড়ছে উদ্বেগ, প্রস্তুতিতে জোরের তাগিদ

জামায়াতের দাবি গণভোটেই ‘বিরোধ’ নিষ্পত্তি হোক, বিএনপি চায় সংসদের ম্যান্ডেট

আপডেট সময় : ১০:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দল গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদকে’ আইনি ভিত্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই সনদের সংস্কার প্রস্তাবে বেশ কিছু ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়ে গেছে। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন কি না, রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাসহ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। অন্যান্য দলেরও বিভিন্ন ইস্যুতে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী চাইছে গণভোটেই এই সব আপত্তির সমাধান হোক। তারা প্রস্তাব করছে, জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে আপত্তি আছে, সেগুলোর ওপর জনগণের আলাদা মতামত নেওয়া হোক। অর্থাৎ, জনগণের মতামত নিয়েই আপত্তির বিষয়গুলো বাতিল বা গ্রহণ করা হোক।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বাংলানিউজকে বলেন, “এগুলো (নোট অব ডিসেন্ট) নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ কোনো দলেরটা তো বড় না, জনগণের মতটাই বড়।” তিনি আরও বলেন, যদি কোনো আপত্তি গণভোটে পাস হয়, তবে সেটাই বাস্তবায়ন হবে। যদি জনগণ তাদের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ না করে, তবে সেটির আর আইনি গুরুত্ব থাকবে না—গণভোটই হবে সুপ্রিম ল’। আযাদের মতে, ঐকমত্য কমিশন ঠিক করবে, কীভাবে এই আপত্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

অন্যদিকে বিএনপি চাইছে ভিন্ন পথ। তাদের মতে, নোট অব ডিসেন্টের ওপর আলাদাভাবে মতামত নেওয়ার দরকার নেই। সনদটি যেভাবে আছে, সেভাবেই গণভোট হবে। এই আপত্তিগুলো জনগণের সামনে উন্মুক্ত থাকবে, এরপর সংসদ নির্বাচনে যেই দল জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, সেই দল তাদের আপত্তি অনুযায়ী সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর হওয়ার পর এটি সব দলের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশন তা প্রকাশ করবে। তিনি বলেন, “যেগুলো নোট অব ডিসেন্ট আছে ওইটাও সনদে উল্লেখ আছে— যে সমস্ত দল ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক (নির্বাচনে) জনম্যান্ডেট পাবে সে সমস্ত দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুসারে যেতে পারবে।” তার মতে, জনগণ রায় দেবে জুলাই সনদের বিষয়ে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নয়।

গত রোববার (৫ অক্টোবর) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে গণভোটের বিষয়ে দলগুলো একমত হলেও, সংস্কার প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট), গণভোটের সময় এবং গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া (অধ্যাদেশ নাকি সাংবিধানিক আদেশ জারি করা হবে) এসব নিয়ে এখনো কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়নি। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে বুধবার (৮ অক্টোবর) রাজনৈতিক দলগুলো আবারও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে।