ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধানে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো সুযোগ নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানে এখন আর ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ বা রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো বিধান নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে কেবল অধ্যাদেশ (Ordinance) প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু পূর্বে প্রচলিত ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ বা রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করার মতো কোনো সাংবিধানিক সুযোগ এখন আর বিদ্যমান নেই।

এই বিএনপি নেতা আরও জানান যে, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ‘জাতীয় সনদের’ মূল অবস্থান থেকে বিএনপি এক বিন্দুও সরেনি এবং তারা এখনো সেই সনদের বিষয়ে শতভাগ একমত। তবে সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রস্তাবনায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অংশটি বাদ দেওয়ায় তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সনদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দফায় কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল এবং সনদে বলাও হয়েছিল যে, দলগুলো যদি নির্বাচনী ইশতেহারে তা উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তবে তারা সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।

তিনি যোগ করেন, “এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ একমত, এখনো আমরা সেই অবস্থানেই আছি এবং আমরা স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে নই। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদ বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত যে সুপারিশ সরকারের কাছে প্রদান করেছে, তার মধ্যে ‘নোট অব ডিসেন্টের’ অংশগুলো একদম উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে ৪৮টি দফা দিয়ে একটি তফসিল করা হয়েছে এবং সেই তফসিলের প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে গণভোটের সুপারিশ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের বিষয়ে আমরা একটি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য জুলাই জাতীয় সনদের ওপরে রাজি হয়েছিলাম। সেই জায়গায় আমরা এখনও অটল আছি।”

সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, এখন এই স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে গিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি অযৌক্তিক এবং নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করে, তাহলে সে বিষয়ে তারা বক্তব্য দিতেই পারে। তবে সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলোর বাইরে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যায়, তবে যারা সনদে সই করেছে সেই রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কোনো দায়-দায়িত্ব বর্তাবে না বা তারা সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য থাকবে না।

রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির বিধান সংবিধানে নেই জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আদেশের বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব এরকম দেইনি যে আদেশ কে জারি করবে। আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে আছি। সাংবিধানিকভাবে এই সরকার শপথ নিয়েছে, সবকিছু আইনানুগভাবে চলছে। এখন কোনো অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা এই সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির নেই।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যদি কোনো আদেশ জারি করতে হয় এবং সেই আদেশের মর্যাদা যদি আইনি হয়, সেই আদেশ জারি করার মতো কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি বাংলাদেশে নেই। কারণ ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ (পিও) জারি করার একটা বিধান একসময় ছিল, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়নি। আপনারা জানেন, তখন সেরকম ‘পিও’ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট অর্ডার নিয়ে রাষ্ট্র চলতো। সংবিধান গৃহীত হয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির আর কোনো বিধান অবশিষ্ট রইল না। সেটি বিলুপ্ত হয়েছে। এখন কী ধরনের আদেশ দেবে, সেই আদেশের মর্যাদা কি আইনি মর্যাদা হবে? সেটা এখনো সরকার নির্ধারণ করেনি। একমাত্র অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্য কোনোভাবে আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা এখন নেই। আদেশ জারি করার কোনো বিধান বর্তমান সংবিধানে নেই।”

তবে এখন সরকার যদি কোনো প্রজ্ঞাপনকে আদেশ নামকরণ করতে চায় এবং সেটির যদি আইনি মর্যাদা না থাকে, তবে তারা গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করতে পারে। সেটি আইন হবে না—যোগ করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সেটা সরকার যদি আলোচনার জন্য আহ্বান জানায়, সেক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে। রাজপথে তো নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

সংবিধানে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো সুযোগ নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানে এখন আর ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ বা রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো বিধান নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে কেবল অধ্যাদেশ (Ordinance) প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু পূর্বে প্রচলিত ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ বা রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করার মতো কোনো সাংবিধানিক সুযোগ এখন আর বিদ্যমান নেই।

এই বিএনপি নেতা আরও জানান যে, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ‘জাতীয় সনদের’ মূল অবস্থান থেকে বিএনপি এক বিন্দুও সরেনি এবং তারা এখনো সেই সনদের বিষয়ে শতভাগ একমত। তবে সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রস্তাবনায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অংশটি বাদ দেওয়ায় তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সনদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দফায় কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল এবং সনদে বলাও হয়েছিল যে, দলগুলো যদি নির্বাচনী ইশতেহারে তা উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তবে তারা সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।

তিনি যোগ করেন, “এ ব্যাপারে আমরা শতভাগ একমত, এখনো আমরা সেই অবস্থানেই আছি এবং আমরা স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে নই। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদ বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত যে সুপারিশ সরকারের কাছে প্রদান করেছে, তার মধ্যে ‘নোট অব ডিসেন্টের’ অংশগুলো একদম উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে ৪৮টি দফা দিয়ে একটি তফসিল করা হয়েছে এবং সেই তফসিলের প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে গণভোটের সুপারিশ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের বিষয়ে আমরা একটি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য জুলাই জাতীয় সনদের ওপরে রাজি হয়েছিলাম। সেই জায়গায় আমরা এখনও অটল আছি।”

সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, এখন এই স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে গিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি অযৌক্তিক এবং নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করে, তাহলে সে বিষয়ে তারা বক্তব্য দিতেই পারে। তবে সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলোর বাইরে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যায়, তবে যারা সনদে সই করেছে সেই রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কোনো দায়-দায়িত্ব বর্তাবে না বা তারা সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য থাকবে না।

রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির বিধান সংবিধানে নেই জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আদেশের বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব এরকম দেইনি যে আদেশ কে জারি করবে। আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে আছি। সাংবিধানিকভাবে এই সরকার শপথ নিয়েছে, সবকিছু আইনানুগভাবে চলছে। এখন কোনো অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা এই সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির নেই।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যদি কোনো আদেশ জারি করতে হয় এবং সেই আদেশের মর্যাদা যদি আইনি হয়, সেই আদেশ জারি করার মতো কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি বাংলাদেশে নেই। কারণ ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ (পিও) জারি করার একটা বিধান একসময় ছিল, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়নি। আপনারা জানেন, তখন সেরকম ‘পিও’ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট অর্ডার নিয়ে রাষ্ট্র চলতো। সংবিধান গৃহীত হয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির আর কোনো বিধান অবশিষ্ট রইল না। সেটি বিলুপ্ত হয়েছে। এখন কী ধরনের আদেশ দেবে, সেই আদেশের মর্যাদা কি আইনি মর্যাদা হবে? সেটা এখনো সরকার নির্ধারণ করেনি। একমাত্র অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্য কোনোভাবে আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা এখন নেই। আদেশ জারি করার কোনো বিধান বর্তমান সংবিধানে নেই।”

তবে এখন সরকার যদি কোনো প্রজ্ঞাপনকে আদেশ নামকরণ করতে চায় এবং সেটির যদি আইনি মর্যাদা না থাকে, তবে তারা গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করতে পারে। সেটি আইন হবে না—যোগ করেন তিনি।

গণভোট ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সেটা সরকার যদি আলোচনার জন্য আহ্বান জানায়, সেক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে। রাজপথে তো নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম উপস্থিত ছিলেন।