ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জে ১০ হাজার গ্রাহকের শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার ফাঁদ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের শতকোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে এক বিশাল প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তীর শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মেয়ে ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনিন আক্তার উষার দিকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের প্রতিশ্রুত প্লট, লভ্যাংশ বা বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে বরং হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টের পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসনাবাদ হাউজিং, কেরানীগঞ্জের চান্দেরচর বিসিআরএসপি প্রজেক্ট, বেয়ারা প্রজেক্ট সহ একাধিক আবাসন প্রকল্প চালু করেন। এসব প্রকল্পে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য ২০১১ সালে কক্সবাজারের ৭০০ বিঘা জমির ওপর ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট ক্লাব’ নামে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হয়। এই পার্কে গ্রাহকদের মালিকানা দেওয়ার শর্তে সদস্য সংগ্রহ করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে সাড়ে ছয় হাজার সদস্যের মধ্যে দুই হাজার আজীবন সদস্যের কাছ থেকে প্রতিজন ৬০ হাজার টাকা করে মোট ১২ কোটি টাকা এবং সাড়ে চার হাজার সদস্যের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা করে মোট ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এছাড়াও, স্বল্পমূল্যে চান্দেরচরে বিসিআরএসপি প্রজেক্টে প্লট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪০০ লোকের কাছ থেকে প্রতিজন দেড় লাখ টাকা করে মোট ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বেয়ারা প্রজেক্ট, হাসনাবাদ হাউজিং, হাসনাবাদ সুপার মার্কেট, টিকাটুলি হাটখোলা বিসমিল্লাহ গার্ডেন, বরিশালের ২০ বিঘা জমির আবাসন প্রকল্প, গাজীপুরের আবাসন প্রকল্প, হাসনাবাদ হাসপাতাল সহ আরও অর্ধশত প্রকল্পে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় নাজিম চেয়ারম্যানের দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, ইকুরিয়ায় একটি ছয়তলা ভবনসহ ফ্ল্যাট, ঢাকার শ্যামলীতে ২০ কাঠা জমির ওপর শ্যামলী টাওয়ার, হাসনাবাদ এলাকায় একাধিক প্লট, হাসনাবাদ গোল টাওয়ার (হাসপাতাল) মার্কেট এবং বসুন্ধরা বারিধারা ও বসুন্ধরা রিভারভিউয়ে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।

কক্সবাজারের ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট ক্লাবে সদস্যদের বার্ষিক দুই রাত তিন দিন বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি বার্ষিক লভ্যাংশ পাওয়ার কথা ছিল। সদস্যপদ প্রত্যাহার করলে পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাজিম চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর এই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

কেরানীগঞ্জে ১০ হাজার গ্রাহকের শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার ফাঁদ

আপডেট সময় : ০৩:০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের শতকোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে এক বিশাল প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তীর শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মেয়ে ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনিন আক্তার উষার দিকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের প্রতিশ্রুত প্লট, লভ্যাংশ বা বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে বরং হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টের পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসনাবাদ হাউজিং, কেরানীগঞ্জের চান্দেরচর বিসিআরএসপি প্রজেক্ট, বেয়ারা প্রজেক্ট সহ একাধিক আবাসন প্রকল্প চালু করেন। এসব প্রকল্পে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য ২০১১ সালে কক্সবাজারের ৭০০ বিঘা জমির ওপর ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট ক্লাব’ নামে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হয়। এই পার্কে গ্রাহকদের মালিকানা দেওয়ার শর্তে সদস্য সংগ্রহ করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে সাড়ে ছয় হাজার সদস্যের মধ্যে দুই হাজার আজীবন সদস্যের কাছ থেকে প্রতিজন ৬০ হাজার টাকা করে মোট ১২ কোটি টাকা এবং সাড়ে চার হাজার সদস্যের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা করে মোট ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এছাড়াও, স্বল্পমূল্যে চান্দেরচরে বিসিআরএসপি প্রজেক্টে প্লট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪০০ লোকের কাছ থেকে প্রতিজন দেড় লাখ টাকা করে মোট ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বেয়ারা প্রজেক্ট, হাসনাবাদ হাউজিং, হাসনাবাদ সুপার মার্কেট, টিকাটুলি হাটখোলা বিসমিল্লাহ গার্ডেন, বরিশালের ২০ বিঘা জমির আবাসন প্রকল্প, গাজীপুরের আবাসন প্রকল্প, হাসনাবাদ হাসপাতাল সহ আরও অর্ধশত প্রকল্পে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় নাজিম চেয়ারম্যানের দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, ইকুরিয়ায় একটি ছয়তলা ভবনসহ ফ্ল্যাট, ঢাকার শ্যামলীতে ২০ কাঠা জমির ওপর শ্যামলী টাওয়ার, হাসনাবাদ এলাকায় একাধিক প্লট, হাসনাবাদ গোল টাওয়ার (হাসপাতাল) মার্কেট এবং বসুন্ধরা বারিধারা ও বসুন্ধরা রিভারভিউয়ে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।

কক্সবাজারের ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট ক্লাবে সদস্যদের বার্ষিক দুই রাত তিন দিন বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি বার্ষিক লভ্যাংশ পাওয়ার কথা ছিল। সদস্যপদ প্রত্যাহার করলে পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাজিম চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর এই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।