বাংলাদেশের কৃষিখাতে সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত ১৩ লাখ ডিজেলচালিত পাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে বছরে প্রায় চার লাখ টন ডিজেল সাশ্রয় করা সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর এক গবেষণায় এই বিপুল সম্ভাবনার চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে ৩৫ থেকে ৪০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়, যা সৌর পাম্পের মাধ্যমে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। ঝিনাইদহের কৃষকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সৌর পাম্প ব্যবহারে চাষাবাদের খরচ নাটকীয়ভাবে কমে যায় এবং ধান ছাড়াও অন্যান্য ফসল আবাদে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও কারিগরি জটিলতায় এই প্রযুক্তি এখনো প্রত্যাশিত গতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।
সৌর সেচ পাম্পের প্রসার না ঘটার অন্যতম প্রধান কারণ হলো জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের অভাব। সেচ মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময় এই পাম্পগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোনো কাজে আসে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা (Net Metering) করা যেত, তবে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতেন এবং বিনিয়োগের টাকা দ্রুত উঠে আসত। এছাড়া একটি বড় সৌর পাম্প স্থাপনে প্রায় ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যা সাধারণ কৃষকদের পক্ষে বহন করা কঠিন। যদিও ‘ইডকল’ (IDCOL) এবং অন্যান্য সংস্থা অনুদান ও ঋণের ব্যবস্থা করছে, তবুও বিশাল প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া অনেককে অনাগ্রহী করে তুলছে।
বর্তমানে ইডকল ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ডিজেল পাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জার্মান সরকারসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে নতুন ফান্ড পাওয়া গেলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুৎ বিভাগের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টেকসই জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সময় কমানো নয়, বরং সেচ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সৌরশক্তির আওতায় আনতে পারলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।
রিপোর্টারের নাম 
























