ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদে বিজু ফুল ভাসিয়ে রাঙামাটিতে উপজাতি সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসবের সূচনা

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে রোববার সকালে ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসিয়ে তিন দিনের বাংলা বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসব শুরু করেছে। সকালে শহরের গর্জনতলীতে ত্রিপুরা এবং রাজবাড়ি ঘাটে চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদন করেন। এ সময় উপজাতি সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে অংশ নেন।

ফুল ভাসানো শেষে কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অতিথি আপ্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈসুক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাগরিকা রোয়াজা। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী বৈসুক উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং এই উৎসব পাহাড়ি-বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর এই উৎসবের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা করে এবং দেশ-বিদেশে তা তুলে ধরে।

রাজবাড়ী ঘাটে অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিজু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই, সাংক্রান ও পাতা উদযাপন পরিষদ। শহরের কেরানি ঘাটেও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসান। তিন দিনের এই উৎসবের প্রথম দিন ছিল ফুল বিজু। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ থাকবে ঐতিহ্যবাহী পাজন। পাজন হলো বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে রান্না করা একটি মিশ্রিত খাবার, যা উপজাতিদের প্রতিটি ঘরে ঘরে তৈরি করা হবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ও নানা খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে। উৎসবের শেষ দিন পালিত হবে গজ্জাপজ্জা, যেদিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ শামিল হবে। এদিন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে একটি আনন্দ শোভাযাত্রাও বের করবে।

এই প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে গত সপ্তাহজুড়ে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মডেল কর্মসূচির মাধ্যমে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম উৎসবে মুখরিত ছিল। উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরাও এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে সামিল হয়, যা উৎসবকে এক সার্বজনীন মিলন মেলায় পরিণত করে। শনিবার রাঙামাটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা, যেখানে পাহাড়ের সকল ধর্মের মানুষের ঢল নামে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

কাপ্তাই হ্রদে বিজু ফুল ভাসিয়ে রাঙামাটিতে উপজাতি সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসবের সূচনা

আপডেট সময় : ০৫:৩১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে রোববার সকালে ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসিয়ে তিন দিনের বাংলা বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসব শুরু করেছে। সকালে শহরের গর্জনতলীতে ত্রিপুরা এবং রাজবাড়ি ঘাটে চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদন করেন। এ সময় উপজাতি সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে অংশ নেন।

ফুল ভাসানো শেষে কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অতিথি আপ্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈসুক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাগরিকা রোয়াজা। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী বৈসুক উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং এই উৎসব পাহাড়ি-বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর এই উৎসবের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা করে এবং দেশ-বিদেশে তা তুলে ধরে।

রাজবাড়ী ঘাটে অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিজু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই, সাংক্রান ও পাতা উদযাপন পরিষদ। শহরের কেরানি ঘাটেও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসান। তিন দিনের এই উৎসবের প্রথম দিন ছিল ফুল বিজু। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে মূল বিজু, যার প্রধান আকর্ষণ থাকবে ঐতিহ্যবাহী পাজন। পাজন হলো বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে রান্না করা একটি মিশ্রিত খাবার, যা উপজাতিদের প্রতিটি ঘরে ঘরে তৈরি করা হবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ও নানা খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে। উৎসবের শেষ দিন পালিত হবে গজ্জাপজ্জা, যেদিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ শামিল হবে। এদিন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে একটি আনন্দ শোভাযাত্রাও বের করবে।

এই প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে গত সপ্তাহজুড়ে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মডেল কর্মসূচির মাধ্যমে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম উৎসবে মুখরিত ছিল। উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরাও এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে সামিল হয়, যা উৎসবকে এক সার্বজনীন মিলন মেলায় পরিণত করে। শনিবার রাঙামাটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা, যেখানে পাহাড়ের সকল ধর্মের মানুষের ঢল নামে।