রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল) হাম ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যেখানে বিশেষায়িত শয্যা সংখ্যা তিন গুণ বাড়িয়েও রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিভাবকরা গুরুতর অসুস্থ শিশুদের নিয়ে শয্যার অপেক্ষায় হাহাকার করছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় আগে নির্ধারিত ১৫টি শয্যা থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ৪৪টি করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি শয্যাই বর্তমানে পূর্ণ।
জরুরি বিভাগে লম্বা সিরিয়াল থাকলেও শয্যা খালি না থাকায় অনেক শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ওয়ার্ড মাস্টার মো. আল আমিন বিশ্বাস জানিয়েছেন, হাসপাতালে ‘ফ্লোরিং’ সিস্টেম না থাকায় এবং শয্যা খালি হওয়ামাত্রই তা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ অনেক শিশুকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চার মাস থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চ জ্বর ও শরীরে র্যাশের মতো মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে আসার হার সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে শিশু হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন নতুন রোগী জরুরি বিভাগে আসছে। ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে এখানে রেফার করা হচ্ছে, যা শয্যা সংকটের চাপকে আরও ঘনীভূত করছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে; মাদানী হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইব্রাহীম মাসুম বিল্লাহ জানিয়েছেন, প্রতিদিন অসংখ্য অভিভাবক হামের আতঙ্ক নিয়ে ফোন করছেন এবং জটিল রোগীদের বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় মৃত্যুর পরিসংখ্যানে—রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই গত সোমবার পর্যন্ত ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপিটালে ছয়জন এবং ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনাতেও শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ঢাকার বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা জেলা ব্যতীত বিভাগের ১৩টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫ জনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আইসোলেশন ও বিশেষায়িত চিকিৎসার পরিধি না বাড়ালে এই পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সংক্রমণের উচ্চ হারের কারণে অনেক অভিভাবক এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না, যা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















