ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জে বালুমহাল ইজারা নিয়ে আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেটের কারচুপি: ১১ কোটি টাকার বালু সাড়ে ৩ কোটিতে!

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বালুমহাল ইজারা নিয়ে আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। আজিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির ভাতিজা মো. বিল্লাল হোসেন খান সিন্ডিকেট তৈরি করে ১১ কোটি টাকার বালুমহাল মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩১ সালে হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারার জন্য নির্ধারিত মূল্য ছিল ১১ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকা। সে সময় এই ইজারা পেয়েছিল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের ঘনিষ্ঠ এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান বিপ্লবের প্রতিষ্ঠান এশিয়ান বিল্ডার্স। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা নেওয়ার পর বালুমহালের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব একটি চুক্তির মাধ্যমে আলী আকবর খান ও আকিবুল হাসান খান পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ১৪৩২ সালে এই বালুমহালের ইজারার মূল্য কমে দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৩২ টাকা। এই ইজারা পায় ফরিদপুরের মিথিলা এন্টারপ্রাইজ, যার স্বত্বাধিকারী স্থানীয়ভাবে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত বলে জানা যায়। সে সময় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বালুমহালটির দায়িত্ব নিলেও, কয়েক মাস পরেই প্রভাব খাটিয়ে আলী আকবর খান ও আকিবুল হাসান খানদের সিন্ডিকেট পুনরায় এটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

১৪৩৩ সালে বালুমহাল ইজারার প্রক্রিয়া আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। এই বছর বালুমহালের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় সাত কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ টাকা। প্রথম দফায় ১৪টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়েছিল মাত্র তিনটি: খান এন্টারপ্রাইজ, সজীব করপোরেশন এবং জমিদার এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে খান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বিল্লাল খান এবং সজীব করপোরেশনের মালিক মো. সুরুজ খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর খান ও আকিবুল হাসান খানের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খান পরিবারের সদস্য হিসেবে সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজস্ব ঠিকাদারদের মাধ্যমে বালুমহালটি নিজেদের দখলে নেওয়ার এই পাঁয়তারা করা হয়েছে।

বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমবার সরকারি মূল্যের তুলনায় দর অনেক কম হওয়ায় দরপত্র বাতিল করে পুনরায় আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয় দফাতেও একই তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয় এবং কম মূল্য প্রস্তাব দেয়। এক্ষেত্রে খান এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং সজীব করপোরেশন দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রস্তাব করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরের গুরুদাসপুরে কলেজে কাফনের কাপড় পার্সেল, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক

মানিকগঞ্জে বালুমহাল ইজারা নিয়ে আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেটের কারচুপি: ১১ কোটি টাকার বালু সাড়ে ৩ কোটিতে!

আপডেট সময় : ০৩:১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বালুমহাল ইজারা নিয়ে আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। আজিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির ভাতিজা মো. বিল্লাল হোসেন খান সিন্ডিকেট তৈরি করে ১১ কোটি টাকার বালুমহাল মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩১ সালে হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারার জন্য নির্ধারিত মূল্য ছিল ১১ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকা। সে সময় এই ইজারা পেয়েছিল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের ঘনিষ্ঠ এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান বিপ্লবের প্রতিষ্ঠান এশিয়ান বিল্ডার্স। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা নেওয়ার পর বালুমহালের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব একটি চুক্তির মাধ্যমে আলী আকবর খান ও আকিবুল হাসান খান পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ১৪৩২ সালে এই বালুমহালের ইজারার মূল্য কমে দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৩২ টাকা। এই ইজারা পায় ফরিদপুরের মিথিলা এন্টারপ্রাইজ, যার স্বত্বাধিকারী স্থানীয়ভাবে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত বলে জানা যায়। সে সময় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বালুমহালটির দায়িত্ব নিলেও, কয়েক মাস পরেই প্রভাব খাটিয়ে আলী আকবর খান ও আকিবুল হাসান খানদের সিন্ডিকেট পুনরায় এটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

১৪৩৩ সালে বালুমহাল ইজারার প্রক্রিয়া আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। এই বছর বালুমহালের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় সাত কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ টাকা। প্রথম দফায় ১৪টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়েছিল মাত্র তিনটি: খান এন্টারপ্রাইজ, সজীব করপোরেশন এবং জমিদার এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে খান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বিল্লাল খান এবং সজীব করপোরেশনের মালিক মো. সুরুজ খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর খান ও আকিবুল হাসান খানের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খান পরিবারের সদস্য হিসেবে সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজস্ব ঠিকাদারদের মাধ্যমে বালুমহালটি নিজেদের দখলে নেওয়ার এই পাঁয়তারা করা হয়েছে।

বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমবার সরকারি মূল্যের তুলনায় দর অনেক কম হওয়ায় দরপত্র বাতিল করে পুনরায় আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয় দফাতেও একই তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয় এবং কম মূল্য প্রস্তাব দেয়। এক্ষেত্রে খান এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং সজীব করপোরেশন দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রস্তাব করে।