ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

এআই ডেটা সেন্টারের প্রভাবে বাড়ছে তাপমাত্রা: ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ‘হিট আইল্যান্ড’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালনার জন্য ব্যবহৃত বিশালাকার ডেটা সেন্টারগুলো থেকে নির্গত তাপ আশপাশের ভূ-প্রকৃতির তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বিজ্ঞানীদের ভাষায় এক ধরনের ‘ডেটা সেন্টার হিট আইল্যান্ড’ তৈরি করছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের গবেষক আন্দ্রেয়া মারিনোনি ও তার সহকর্মীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি এআই ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর আশপাশের ভূমির তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির মাত্রা ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’-এ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২০ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বের ৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি এআই ডেটা সেন্টারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই তাপ বৃদ্ধির প্রভাব কেবল ডেটা সেন্টারের কাছাকাছি এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনকি ৭ কিলোমিটার দূরেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বজায় থাকে। গবেষক মারিনোনি এই ফলাফলকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘বড় ধরনের সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ বর্তমানে এমন উষ্ণ এলাকায় বসবাস করছেন, যেখানে ডেটা সেন্টার না থাকলে তাপমাত্রা অনেক কম থাকত। উদাহরণস্বরূপ, মেক্সিকোর বাজিও অঞ্চল এবং স্পেনের আরাগন প্রদেশে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে অন্য কোনো ভৌগোলিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি জেএলএলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা দ্বিগুণ হতে পারে, যার অর্ধেকই ব্যবহার করবে এআই খাত। এর ফলে আগামীতে তাপ উৎপাদনের মাত্রা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টলের গবেষক ক্রিস প্রিস্ট মনে করেন, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে কম্পিউটেশনাল হিট (গণনাজনিত তাপ) না কি ভবনের কাঠামোগত তাপ বেশি দায়ী—তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও গবেষক মারিনোনির মতে, ডেটা সেন্টার যেভাবেই হোক ভূমির তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের নকশা ও উন্নয়নের সময় এই পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

এআই ডেটা সেন্টারের প্রভাবে বাড়ছে তাপমাত্রা: ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ‘হিট আইল্যান্ড’

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালনার জন্য ব্যবহৃত বিশালাকার ডেটা সেন্টারগুলো থেকে নির্গত তাপ আশপাশের ভূ-প্রকৃতির তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বিজ্ঞানীদের ভাষায় এক ধরনের ‘ডেটা সেন্টার হিট আইল্যান্ড’ তৈরি করছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের গবেষক আন্দ্রেয়া মারিনোনি ও তার সহকর্মীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি এআই ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর আশপাশের ভূমির তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির মাত্রা ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’-এ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২০ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বের ৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি এআই ডেটা সেন্টারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এই তাপ বৃদ্ধির প্রভাব কেবল ডেটা সেন্টারের কাছাকাছি এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনকি ৭ কিলোমিটার দূরেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বজায় থাকে। গবেষক মারিনোনি এই ফলাফলকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘বড় ধরনের সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ বর্তমানে এমন উষ্ণ এলাকায় বসবাস করছেন, যেখানে ডেটা সেন্টার না থাকলে তাপমাত্রা অনেক কম থাকত। উদাহরণস্বরূপ, মেক্সিকোর বাজিও অঞ্চল এবং স্পেনের আরাগন প্রদেশে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে অন্য কোনো ভৌগোলিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি জেএলএলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা দ্বিগুণ হতে পারে, যার অর্ধেকই ব্যবহার করবে এআই খাত। এর ফলে আগামীতে তাপ উৎপাদনের মাত্রা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টলের গবেষক ক্রিস প্রিস্ট মনে করেন, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে কম্পিউটেশনাল হিট (গণনাজনিত তাপ) না কি ভবনের কাঠামোগত তাপ বেশি দায়ী—তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও গবেষক মারিনোনির মতে, ডেটা সেন্টার যেভাবেই হোক ভূমির তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের নকশা ও উন্নয়নের সময় এই পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।