ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার খেরুয়া মসজিদ: ৪০০ বছরের স্থাপত্য নিদর্শন, অবহেলায় সংকটে ঐতিহ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনবদ্য নিদর্শন বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত খেরুয়া মসজিদ। ৪৪৪ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদ তার নান্দনিক সৌন্দর্য, প্রকাণ্ড মিনার ও অপূর্ব কারুকার্যখচিত দেয়ালের জন্য আজও দর্শক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে। মসজিদের সামনে রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা এক আয়তাকার খোলা প্রাঙ্গণ, যা চারপাশের নারকেল, আম, কদমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফুল ও ফলের গাছে আরও মনোরম হয়ে উঠেছে।

১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশালের পৃষ্ঠপোষকতায় আবদুস সামাদ ফকির মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের চার কোণে চারটি বিশাল মিনার এবং ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজ এর স্থাপত্যশৈলীকে আরও মহিমান্বিত করেছে। ভেতরের তিনটি মেহরাবও চমৎকার কারুকার্যে সজ্জিত। প্রবেশদ্বারের দু’পাশের দুটি শিলালিপির মধ্যে বাঁ পাশেরটি এখনও অক্ষত থাকলেও, ডান পাশেরটি বর্তমানে পাকিস্তানের করাচি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। মসজিদের সামনে আবদুস সামাদ ফকিরের কবরও রয়েছে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকা এই মসজিদটি প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে দিন দিন জীর্ণ হয়ে পড়ছে। ছাদের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বর্ষাকালে মসজিদের আঙিনা পানিতে ডুবে যায়। আধুনিক নির্মাণ পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত সংস্কার করা না হলে এই অমূল্য স্থাপত্য নিদর্শন তার জৌলুস হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ও ইতিহাসপ্রেমীরা। মসজিদটির বিশদ গবেষণা ও যথাযথ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিলে সংসদের সিলমোহর: রাজপথে নয়, লড়াই এবার উচ্চ আদালতে?

বগুড়ার খেরুয়া মসজিদ: ৪০০ বছরের স্থাপত্য নিদর্শন, অবহেলায় সংকটে ঐতিহ্য

আপডেট সময় : ০২:২১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনবদ্য নিদর্শন বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত খেরুয়া মসজিদ। ৪৪৪ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদ তার নান্দনিক সৌন্দর্য, প্রকাণ্ড মিনার ও অপূর্ব কারুকার্যখচিত দেয়ালের জন্য আজও দর্শক ও গবেষকদের মুগ্ধ করে। মসজিদের সামনে রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা এক আয়তাকার খোলা প্রাঙ্গণ, যা চারপাশের নারকেল, আম, কদমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফুল ও ফলের গাছে আরও মনোরম হয়ে উঠেছে।

১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশালের পৃষ্ঠপোষকতায় আবদুস সামাদ ফকির মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের চার কোণে চারটি বিশাল মিনার এবং ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজ এর স্থাপত্যশৈলীকে আরও মহিমান্বিত করেছে। ভেতরের তিনটি মেহরাবও চমৎকার কারুকার্যে সজ্জিত। প্রবেশদ্বারের দু’পাশের দুটি শিলালিপির মধ্যে বাঁ পাশেরটি এখনও অক্ষত থাকলেও, ডান পাশেরটি বর্তমানে পাকিস্তানের করাচি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। মসজিদের সামনে আবদুস সামাদ ফকিরের কবরও রয়েছে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকা এই মসজিদটি প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে দিন দিন জীর্ণ হয়ে পড়ছে। ছাদের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বর্ষাকালে মসজিদের আঙিনা পানিতে ডুবে যায়। আধুনিক নির্মাণ পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত সংস্কার করা না হলে এই অমূল্য স্থাপত্য নিদর্শন তার জৌলুস হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ও ইতিহাসপ্রেমীরা। মসজিদটির বিশদ গবেষণা ও যথাযথ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।