বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাল রোগ, যা মূলত রুবোলা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মাধ্যমে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। সরাসরি সংস্পর্শ বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, হামের মতো দেখতে আরও কিছু ভাইরাল সংক্রমণ রয়েছে যেগুলোকে ‘প্যারা মিজেলস’ বলা হয়। রুবেলা, এডিনোভাইরাস বা এন্টারোভাইরাসের মতো ভাইরাসের কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ না থাকলেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি।
হামের সবচেয়ে ভয়াবহ জটিলতা হলো নিউমোনিয়া, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ হামে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে বড় একটি অংশ মৃত্যুবরণ করে মূলত নিউমোনিয়ার কারণে। বাংলাদেশেও বর্তমানে এই রোগের বিস্তার রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























