ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ: বিতর্কিত রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরজিৎ রায়ের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়োগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ভবানীপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরজিৎ রায়কে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (সিএমও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট চলাকালীন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিল। রবিবার রাজ্য কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সুরজিৎসহ মোট ৯ জন আমলাকে সিএমও-তে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্বাচনের সময় তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, সুরজিৎ রায় নন্দীগ্রামের শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। এমনকি ভবানীপুরের তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছিলেন এবং সুরজিৎকে বদলের দাবি জানিয়েছিলেন। নবান্ন তখন কমিশনের কাছে তিনজনের নামের প্যানেল পাঠালেও কমিশন সুরজিৎকেই বহাল রেখেছিল। এবার সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকেই নিজের দফতরে নিয়ে এলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক রদবদলের যে ইঙ্গিত মিলেছিল, রবিবারের বিজ্ঞপ্তিতে তা স্পষ্ট হয়েছে। একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জনই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে আসছেন। এই তালিকায় রয়েছেন দুই আইএএস কর্মকর্তা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের যুগ্ম সচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল। এছাড়াও ডায়মন্ড হারবারের এসডিও এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উপসচিবসহ সাতজনকে সিএমও-তে সিনিয়র উপসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে (স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর) কর্মরত সহকারী সচিব পবিত্র চক্রবর্তীকে উত্তরবঙ্গে বদলি করে কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী তার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে শান্তনু বালা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্ন এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬২ জন আমলাকে তলব করে, যারা তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব বা বিশেষ সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধন না সংস্কার: মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি ও জামায়াত

পশ্চিমবঙ্গ: বিতর্কিত রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরজিৎ রায়ের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়োগ

আপডেট সময় : ১১:১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ভবানীপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরজিৎ রায়কে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (সিএমও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট চলাকালীন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিল। রবিবার রাজ্য কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সুরজিৎসহ মোট ৯ জন আমলাকে সিএমও-তে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্বাচনের সময় তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, সুরজিৎ রায় নন্দীগ্রামের শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। এমনকি ভবানীপুরের তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছিলেন এবং সুরজিৎকে বদলের দাবি জানিয়েছিলেন। নবান্ন তখন কমিশনের কাছে তিনজনের নামের প্যানেল পাঠালেও কমিশন সুরজিৎকেই বহাল রেখেছিল। এবার সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকেই নিজের দফতরে নিয়ে এলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক রদবদলের যে ইঙ্গিত মিলেছিল, রবিবারের বিজ্ঞপ্তিতে তা স্পষ্ট হয়েছে। একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জনই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে আসছেন। এই তালিকায় রয়েছেন দুই আইএএস কর্মকর্তা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের যুগ্ম সচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল। এছাড়াও ডায়মন্ড হারবারের এসডিও এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উপসচিবসহ সাতজনকে সিএমও-তে সিনিয়র উপসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে (স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর) কর্মরত সহকারী সচিব পবিত্র চক্রবর্তীকে উত্তরবঙ্গে বদলি করে কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী তার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে শান্তনু বালা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্ন এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬২ জন আমলাকে তলব করে, যারা তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব বা বিশেষ সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।