গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা চলাকালীন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রহস্যময় জনসমক্ষে অনুপস্থিতি তেহরানের রাজনীতিতে এক বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তার নীরবতা এবং প্রকাশ্য না আসা ইরানের শাসক মহলে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, একটি বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে মোজতবার পক্ষ থেকে কেবল কিছু লিখিত বার্তা এবং ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সেসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি বা সম্পাদিত।
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। যুদ্ধের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এখন তারা দ্বিধাবিভক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার কট্টরপন্থি সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা শান্তি আলোচনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো মধ্যপন্থি নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত নতি স্বীকার করছেন।
কট্টরপন্থি অনেক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির কাছে অন্তত একটি অডিও বার্তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তিনি এই আলোচনার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। ইরানের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বড় সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। মোজতবার দুই পূর্বসূরি প্রায়ই জনসমক্ষে এসে বিভিন্ন পক্ষের বিবাদ মেটাতেন।
বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মোজতবার নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের ছবি বা তেহরানের রাজপথের বিশাল বিলবোর্ডগুলোও এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে করা হচ্ছে। তার কোনো কণ্ঠস্বর না পাওয়ায় অনেক ইরানি নাগরিক প্রশ্ন তুলছেন, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না।
রিপোর্টারের নাম 





















