ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

শ্রমিকের অবদান প্রায়ই স্বীকৃতি পায় না: মে দিবসে ড. ইউনূসের বার্তা

মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যাদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে, তারা প্রকৃত অর্থে খুব কমই স্বীকৃতি পান। বিশেষ করে মাঠ-ঘাট, কলকারখানা ও পোশাক খাতের শ্রমিকদের পাশাপাশি তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন। ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীরা প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেও তাদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন হয় না। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্রুতগতিতে শ্রমবাজার বদলে দিচ্ছে, যা কোটি মানুষের জীবিকা সংকটে ফেলতে পারে। তবে প্রযুক্তিকে তিনি মানুষের মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে কাজে লাগানো উচিত যাতে মানুষ কেবল অন্যের আদেশ পালন না করে নিজের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তিনি এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন যেখানে দারিদ্র ও অমর্যাদা থেকে মুক্তি পেয়ে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পছন্দমতো কর্মজীবনের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকের অবদান প্রায়ই স্বীকৃতি পায় না: মে দিবসে ড. ইউনূসের বার্তা

শ্রমিকের অবদান প্রায়ই স্বীকৃতি পায় না: মে দিবসে ড. ইউনূসের বার্তা

আপডেট সময় : ১২:০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যাদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে, তারা প্রকৃত অর্থে খুব কমই স্বীকৃতি পান। বিশেষ করে মাঠ-ঘাট, কলকারখানা ও পোশাক খাতের শ্রমিকদের পাশাপাশি তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন। ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীরা প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেও তাদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন হয় না। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্রুতগতিতে শ্রমবাজার বদলে দিচ্ছে, যা কোটি মানুষের জীবিকা সংকটে ফেলতে পারে। তবে প্রযুক্তিকে তিনি মানুষের মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে কাজে লাগানো উচিত যাতে মানুষ কেবল অন্যের আদেশ পালন না করে নিজের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তিনি এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন যেখানে দারিদ্র ও অমর্যাদা থেকে মুক্তি পেয়ে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পছন্দমতো কর্মজীবনের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।