যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ভার্জিনিয়া ফেডারেল আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া আদালতে শুনানি শেষে বিচারক উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক কোনো বিশেষ শর্ত ছাড়াই তাঁকে আদালত ত্যাগের অনুমতি দেন। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোস্ট করা একটি বিতর্কিত ছবিকে কেন্দ্র করেই এই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, উত্তর ক্যারোলাইনার একটি সৈকতে শামুক ও ঝিনুক দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ সংখ্যাটি সাজিয়ে ট্রাম্পকে হত্যার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন কোমি। ইংরেজি অপভাষায় ‘৮৬’ বলতে কোনো কিছু বাতিল করা বা মুক্তি পাওয়া বোঝানো হয়, আর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ায় রিপাবলিকানরা বিষয়টিকে সরাসরি প্রাণের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে জেমস কোমি সেই ছবির ক্যাপশনে সাধারণ পর্যটক হিসেবে সৈকতের ঝিনুকের প্রশংসা করেছিলেন।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর এই মামলার কার্যক্রম গতি পায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই মামলাকে অনেক বিশেষজ্ঞ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে বিচার বিভাগকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহারের নেপথ্যে কোমির বড় ভূমিকা ছিল। তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ইউজিন ভালোখের মতে, এই অভিযোগের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এটি স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধের আওতায় পড়ে না।
কোমির আইনজীবীরা ইতিমধ্যে এই মামলাকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিহিংসামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর আগে জেমস কোমির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগে একটি মামলা হলেও সেটি আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। এই নতুন মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























