ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা: উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, অনির্দিষ্টকালের শাটডাউনের ডাক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ (কমপ্লিট শাটডাউন) ঘোষণা করেছেন।

‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে রবিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসেন এবং সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রক্টর রাহাত হোসেন বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য যে টালবাহানা করছেন, তাতে এই পরিবেশে তার সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম জানান, প্রক্টর ও সিন্ডিকেটের ৯ জন শিক্ষকসহ যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তারা সবাই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রমে সম্পূর্ণ শাটডাউন পালিত হবে।

শিক্ষকদের এই কর্মসূচির পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত আবারও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে গিয়ে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন।

শিক্ষকরা আরও জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ৯ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন, যা শিক্ষকদের ক্ষোভের মূল কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধন না সংস্কার: মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি ও জামায়াত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা: উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, অনির্দিষ্টকালের শাটডাউনের ডাক

আপডেট সময় : ১১:১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ (কমপ্লিট শাটডাউন) ঘোষণা করেছেন।

‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে রবিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসেন এবং সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রক্টর রাহাত হোসেন বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য যে টালবাহানা করছেন, তাতে এই পরিবেশে তার সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম জানান, প্রক্টর ও সিন্ডিকেটের ৯ জন শিক্ষকসহ যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তারা সবাই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রমে সম্পূর্ণ শাটডাউন পালিত হবে।

শিক্ষকদের এই কর্মসূচির পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত আবারও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে গিয়ে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন।

শিক্ষকরা আরও জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ৯ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন, যা শিক্ষকদের ক্ষোভের মূল কারণ।