ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পুলিশ পদক স্থগিত: অসন্তোষের জেরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, প্রকাশ্যে অভ্যন্তরীণ সংকট

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পদক বঞ্চিতদের অভিযোগ, পদক বিতরণ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ‘তীব্র অসন্তোষের’ কারণেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনের পাশাপাশি পদকপ্রাপ্তদের মহড়া সম্পন্ন, মঞ্চ প্রস্তুত এবং অতিথি তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগের দিন শনিবার রাতে হঠাৎ পদক প্রদান স্থগিত করা হয়। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত করা হলো। এর আগে করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে আয়োজনে সীমাবদ্ধতা এলেও, কখনো অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়নি।

পেশাগত কাজে দক্ষতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১০৯ জন পুলিশ সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্তে বাহিনীর ভেতর ও বাইরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিতের বিষয়ে শুরুতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না হওয়া এবং তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য আপাতত পদক প্রদান স্থগিত করা হয়েছে। পদক প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি বাধ্যতামূলক এবং রাষ্ট্রপতির দেশের বাইরে থাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে তাদের ভাষ্য ছিল।

তবে রবিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন জারি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক এই ব্যাখ্যার আড়ালে অন্য কারণ রয়েছে কিনা— সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, পদক তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অভিযোগ ওঠে, আগের সরকারের আমলে পদক পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আবারও তালিকায় এসেছে। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা প্রভাবশালী সংযোগের অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তারাও মনোনয়ন পেয়েছেন। বিতর্কিত অভিযান বা আলোচিত ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু কর্মকর্তার দাবি, মাঠপর্যায়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সদস্যদের পরিবর্তে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পদক নেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অযোধ্যায় রামমন্দিরের অর্থ ও গয়না লোপাট: ক্ষুব্ধ ভক্তদের দান বন্ধের ঘোষণা

পুলিশ পদক স্থগিত: অসন্তোষের জেরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, প্রকাশ্যে অভ্যন্তরীণ সংকট

আপডেট সময় : ০৯:০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পদক বঞ্চিতদের অভিযোগ, পদক বিতরণ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ‘তীব্র অসন্তোষের’ কারণেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনের পাশাপাশি পদকপ্রাপ্তদের মহড়া সম্পন্ন, মঞ্চ প্রস্তুত এবং অতিথি তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগের দিন শনিবার রাতে হঠাৎ পদক প্রদান স্থগিত করা হয়। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত করা হলো। এর আগে করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে আয়োজনে সীমাবদ্ধতা এলেও, কখনো অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়নি।

পেশাগত কাজে দক্ষতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১০৯ জন পুলিশ সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্তে বাহিনীর ভেতর ও বাইরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিতের বিষয়ে শুরুতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না হওয়া এবং তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য আপাতত পদক প্রদান স্থগিত করা হয়েছে। পদক প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি বাধ্যতামূলক এবং রাষ্ট্রপতির দেশের বাইরে থাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে তাদের ভাষ্য ছিল।

তবে রবিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন জারি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক এই ব্যাখ্যার আড়ালে অন্য কারণ রয়েছে কিনা— সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, পদক তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অভিযোগ ওঠে, আগের সরকারের আমলে পদক পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আবারও তালিকায় এসেছে। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা প্রভাবশালী সংযোগের অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তারাও মনোনয়ন পেয়েছেন। বিতর্কিত অভিযান বা আলোচিত ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু কর্মকর্তার দাবি, মাঠপর্যায়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সদস্যদের পরিবর্তে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পদক নেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।