ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

জ্বালানি সংকট: পাম্প বন্ধ, কোথাও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ

চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহর ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহীর অধিকাংশ পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গত সোমবার সকাল থেকেই সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল জানিয়েছেন, পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল মজুত ছিল, তা রোববারই শেষ হয়ে গেছে। ফলে সোমবার থেকে কোনো পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে লরিগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রত্যেক লরিতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল ধারণক্ষমতা থাকলেও, মাত্র তিন হাজার লিটার দেওয়া হচ্ছে। যে পরিমাণ তেল আসছে, তা সঙ্গে সঙ্গে পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তেল বিক্রি শুরুর সময় উদ্ভূত সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই জেলা প্রশাসকের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই নগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, শিরোইল, কোর্ট এলাকা, তালাইমারীসহ বিভিন্ন পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিকাংশ চালক তেল সংগ্রহ করতে পারেননি। পাম্প মালিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বুধবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সমিতি প্রশাসনের কাছে জ্বালানি তেলের ন্যায্য বণ্টন ও বিশৃঙ্খলা রোধে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।

‘তেল নেই’ প্ল্যাকার্ড ঝুলছে খুলনায়

খুলনা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক পাম্পে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল বিক্রির নিয়ম চালু করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিনেমার গল্পকেও হার মানালো ছৈয়দ আহাম্মদের ফিরে আসা: ৫৪ বছর পর আপন ঠিকানায়

জ্বালানি সংকট: পাম্প বন্ধ, কোথাও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহর ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহীর অধিকাংশ পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গত সোমবার সকাল থেকেই সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল জানিয়েছেন, পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল মজুত ছিল, তা রোববারই শেষ হয়ে গেছে। ফলে সোমবার থেকে কোনো পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে লরিগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রত্যেক লরিতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল ধারণক্ষমতা থাকলেও, মাত্র তিন হাজার লিটার দেওয়া হচ্ছে। যে পরিমাণ তেল আসছে, তা সঙ্গে সঙ্গে পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তেল বিক্রি শুরুর সময় উদ্ভূত সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই জেলা প্রশাসকের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই নগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, শিরোইল, কোর্ট এলাকা, তালাইমারীসহ বিভিন্ন পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিকাংশ চালক তেল সংগ্রহ করতে পারেননি। পাম্প মালিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বুধবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সমিতি প্রশাসনের কাছে জ্বালানি তেলের ন্যায্য বণ্টন ও বিশৃঙ্খলা রোধে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।

‘তেল নেই’ প্ল্যাকার্ড ঝুলছে খুলনায়

খুলনা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক পাম্পে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল বিক্রির নিয়ম চালু করা হয়েছে।