ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বারিধারা ডিওএইচএসে লে. জে. মাসুদের ভবনে অবৈধ গার্মেন্ট অফিসের সন্ধান: স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা ডিওএইচএসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে গার্মেন্ট অফিস পরিচালনার দীর্ঘদিনের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বারিধারা ডিওএইচএসের ১৫৩ নম্বর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সাড়ে ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটির নিচে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও ভেতরে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভবনটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পরিবারসহ বসবাস করতেন।

বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মিরাজ জানান, সোমবার গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এসে ভবনটির তালা খুলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর ভবনটিকে ঘিরে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলা গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় একটি গার্মেন্ট অফিসের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছিল।

বারিধারা ডিওএইচএসের মতো সংরক্ষিত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক অফিস পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় হলেও, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে এতদিন এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাননি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

আশপাশের বাসিন্দারা জানান, আবাসিক এলাকায় এই ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে তাদের চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হতো। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্ট অফিস চালানোর কারণে পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিনেমার গল্পকেও হার মানালো ছৈয়দ আহাম্মদের ফিরে আসা: ৫৪ বছর পর আপন ঠিকানায়

বারিধারা ডিওএইচএসে লে. জে. মাসুদের ভবনে অবৈধ গার্মেন্ট অফিসের সন্ধান: স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা ডিওএইচএসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে গার্মেন্ট অফিস পরিচালনার দীর্ঘদিনের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বারিধারা ডিওএইচএসের ১৫৩ নম্বর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সাড়ে ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটির নিচে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও ভেতরে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভবনটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী পরিবারসহ বসবাস করতেন।

বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মিরাজ জানান, সোমবার গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এসে ভবনটির তালা খুলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর ভবনটিকে ঘিরে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলা গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় একটি গার্মেন্ট অফিসের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছিল।

বারিধারা ডিওএইচএসের মতো সংরক্ষিত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক অফিস পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় হলেও, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে এতদিন এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাননি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

আশপাশের বাসিন্দারা জানান, আবাসিক এলাকায় এই ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে তাদের চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হতো। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্ট অফিস চালানোর কারণে পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।