ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জিহাদ নামের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমানের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জেনারেল রেজিস্টার অফিসার (জিআরও) আবদুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের ১১ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে এবং ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মামলা থেকে সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেন।

মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত থাকা অবস্থায় এবং ঘটনাস্থল নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে (হাজারীবাগ) জখম হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে সাজানো হয়েছিল। এই মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্নার আদালত আসামিদের অব্যাহতি দেন।

অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি থেকে এটা স্পষ্ট যে, এটি একটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত আছেন এবং তিনি কেবল জখমপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এই বিষয়ে তিনি নিজেই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনের অব্যাহতি

আপডেট সময় : ০৯:১২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জিহাদ নামের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমানের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জেনারেল রেজিস্টার অফিসার (জিআরও) আবদুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের ১১ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে এবং ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মামলা থেকে সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেন।

মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত থাকা অবস্থায় এবং ঘটনাস্থল নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে (হাজারীবাগ) জখম হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে সাজানো হয়েছিল। এই মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্নার আদালত আসামিদের অব্যাহতি দেন।

অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি থেকে এটা স্পষ্ট যে, এটি একটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত আছেন এবং তিনি কেবল জখমপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এই বিষয়ে তিনি নিজেই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।