চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী গ্রামে একটি টমেটো ক্ষেত থেকে সজিব চৌধুরী আকাশ (২৫) নামের এক যুবদল কর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহত সজিব চৌধুরী আকাশ মীরসরাই উপজেলার আবুতোরব এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ডে তার নানার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিনের সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজে কাজ করতেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী এলাকায় বিএনপি নেতা আবদুল আলিম গ্রুপ এবং যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিনের গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই সজিব নিখোঁজ ছিলেন এবং রাতেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মুরাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবদুল আলিম ও মো. শাহাবুদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিনের দাবি, কিছুদিন আগে একটি সিএনজি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে উল্টো সেই ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে সজিবকে হত্যা করেছে। এ সময় তার পক্ষের আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বেল্লাল জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তখালী গ্রামের মো. শহীদের ছেলে রাকিব (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম ধারণা করছেন, এলাকায় দু’টি গ্রুপের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























