ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে স্বস্তির ঈদযাত্রা: সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে চালু হলো চার লেন

আসন্ন ঈদে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের বহু প্রতীক্ষিত চার লেনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং হাটিকুমরুল ইন্টার-চেঞ্জের দুটি লেইনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। যানজট নিরসন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগের ফলে উত্তরের জেলাগুলোতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।

যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়ককে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল থেকে নাটোর টোলপ্লাজা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল থেকে বাঘাবাড়ি ঘাট পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার প্রায় ১৭-১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা ঈদ উপলক্ষে প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। অতীতে দুই লেনের এই সড়কটি যানজটের কারণে বিশেষ করে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের কারণ ছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হয়েছে এবং ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কও সমান চওড়া করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ভোগান্তির পর এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তির আশা করছেন যাত্রীরা। তবে হাইওয়ে পুলিশ হাটিকুমরুল ইন্টার-চেঞ্জকে সম্ভাব্য যানজটের কারণ হিসেবে দেখছে এবং এ কারণে সেখানে পৃথক লেনে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। রাতের বেলায় গাড়ি চলাচলে দেওয়া হচ্ছে স্কট সুবিধা। ঈদ-যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের সংস্কার কাজও করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার এক হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকছে। চাঁন রাত পর্যন্ত চলবে নিরবচ্ছিন্ন পাহারা এবং সড়ক শৃঙ্খলার জন্য ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

ট্রাক চালক নুর ইসলাম বলেন, “আগে রাস্তা ছোট ছিল। এখন রাস্তা ফোর লেন হয়েছে, কোনো সমস্যা হয় না। আশা করি ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারব।” বাস চালক দুলাল হোসেনও একই সুরে কথা বলেন, “মহাসড়কে যানজট নেই। অতিরিক্ত পুলিশ দেওয়া হয়েছে। যমুনা সেতু পশ্চিম পাড়ে রাস্তা ফোর লেন। যাত্রীরা ভালো সেবা পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নাই। আশা করা যাচ্ছে ঈদে সমস্যা হবে না। সমস্যা হলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় হতে পারে, তবে সিরাজগঞ্জ অংশ ভালো আছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনায় জাটকা নিধন রোধে নৌ পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২৫ জেলে আটক, জাল জব্দ

উত্তরাঞ্চলে স্বস্তির ঈদযাত্রা: সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে চালু হলো চার লেন

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আসন্ন ঈদে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের বহু প্রতীক্ষিত চার লেনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং হাটিকুমরুল ইন্টার-চেঞ্জের দুটি লেইনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। যানজট নিরসন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগের ফলে উত্তরের জেলাগুলোতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।

যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়ককে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল থেকে নাটোর টোলপ্লাজা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার, হাটিকুমরুল থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল থেকে বাঘাবাড়ি ঘাট পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার প্রায় ১৭-১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা ঈদ উপলক্ষে প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। অতীতে দুই লেনের এই সড়কটি যানজটের কারণে বিশেষ করে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের কারণ ছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হয়েছে এবং ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কও সমান চওড়া করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ভোগান্তির পর এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তির আশা করছেন যাত্রীরা। তবে হাইওয়ে পুলিশ হাটিকুমরুল ইন্টার-চেঞ্জকে সম্ভাব্য যানজটের কারণ হিসেবে দেখছে এবং এ কারণে সেখানে পৃথক লেনে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। রাতের বেলায় গাড়ি চলাচলে দেওয়া হচ্ছে স্কট সুবিধা। ঈদ-যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের সংস্কার কাজও করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার এক হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকছে। চাঁন রাত পর্যন্ত চলবে নিরবচ্ছিন্ন পাহারা এবং সড়ক শৃঙ্খলার জন্য ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

ট্রাক চালক নুর ইসলাম বলেন, “আগে রাস্তা ছোট ছিল। এখন রাস্তা ফোর লেন হয়েছে, কোনো সমস্যা হয় না। আশা করি ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারব।” বাস চালক দুলাল হোসেনও একই সুরে কথা বলেন, “মহাসড়কে যানজট নেই। অতিরিক্ত পুলিশ দেওয়া হয়েছে। যমুনা সেতু পশ্চিম পাড়ে রাস্তা ফোর লেন। যাত্রীরা ভালো সেবা পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নাই। আশা করা যাচ্ছে ঈদে সমস্যা হবে না। সমস্যা হলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় হতে পারে, তবে সিরাজগঞ্জ অংশ ভালো আছে।”