সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ফসলি জমির পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এবং দায়সারা অভিযানের কারণেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের বেলায় লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হলেও রাতের আঁধারে নির্বিঘ্নে চলছে টপ সয়েল বাণিজ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় অনেক জমির মালিক বিদেশে অবস্থান করায় তাদের জমি দেখভালের দায়িত্ব থাকে কেয়ারটেকার বা বর্গাচাষিদের ওপর। তারা প্রায়শই ‘ফসল ভালো হচ্ছে না’—এমন অজুহাত দেখিয়ে ফসলি জমির দেড় থেকে দুই ফুট গভীর টপ সয়েল মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। এই মাটি পরবর্তীতে বাড়িঘর, ইটভাটা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভরাট কাজে ব্যবহার করে মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা মুনাফা লুটে নিচ্ছেন।
মাটি ব্যবসায়ীদের একটি গোপন সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা সদরের কয়েকজন পুরোনো মাটি ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক চক্র উপজেলা প্রশাসনের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে গত দুই মাস ধরে নির্বিঘ্নে টপ সয়েল কাটার সুযোগ করে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ বাণিজ্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলার তাজপুর, গোয়ালাবাজার, উসমানপুর, দয়ামীর, বুরুঙ্গা, পশ্চিম পৈলনপুর, সাদীপুর ও উমরপুরসহ আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরাঞ্চল থেকে ট্রাক্টর ও ডাম্পারের মাধ্যমে অবাধে কৃষিজমি থেকে টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাকযোগে মাটি পরিবহনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়ক ভেঙে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার হাওর তীরবর্তী গ্রামের সড়কে পড়ে থাকা মাটি পানির সঙ্গে মিশে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এতে রাত থেকে পরদিন পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনের একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান নষ্ট হয়ে উর্বরতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রিপোর্টারের নাম 





















