ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: ২০টির বেশি আঘাতের ক্ষত, এজাহারে ৪ জনের নাম, ক্যাম্পাসে উত্তাল বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ২০টির বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গভীর ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিনভর উত্তাল ছিল ইবি ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে, নিহত শিক্ষিকার স্বামী ৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকও রয়েছেন।

২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন, নেপথ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আসমা সাদিয়া রুনার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার নিচে সজোরে আঘাত করা হয়েছে, যা তার মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বুক, পেট, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টির বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তি হয়েছিল এবং বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে তার হাতেও আঘাত লাগে। আঘাতের গভীরতা ও সংখ্যা দেখে এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং চরম বিদ্বেষপ্রসূত বলে মনে করা হচ্ছে।

৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার, দুজন শিক্ষকও অভিযুক্ত
নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বুধবার গভীর রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে মূল অভিযুক্ত করে আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য তিনজন হলেন—সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। কুষ্টিয়া পুলিশের মুখপাত্র ফয়সাল মাহমুদ এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন।

আর্থিক দ্বন্দ্ব ও শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগ
রুনার মামা সাইফুল ইসলাম জানান, ফজলুর রহমান নিহত শিক্ষিকাকে বিভাগের বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে চাপ দিতেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো ইন্ধন থাকতে পারে এবং কয়েকজন শিক্ষকও জড়িত। রুনার ভাই আবদুর রশিদ ও শফিকুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। রুনার ছোট ছোট চারটি সন্তান, যাদের মধ্যে দেড় বছরের শিশুটিও জানে না তার মা আর নেই। তারা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

উত্তাল ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি
শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তাল ছিল ইবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দ্রুত হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের দাবি জানান তারা। ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্মার্ট আইডি ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখার দাবি জানান। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, একজন কর্মচারী কতটা উগ্র হলে একজন শিক্ষককে এভাবে হত্যা করতে পারে, তা অকল্পনীয়।

দাফন সম্পন্ন, এমপি’র সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে শিক্ষিকা রুনার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এমন ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

আহত ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে, গত বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের পর একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে ফজলুর রহমান কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের আরএমও হোসেন ইমাম জানান, ফজলুর রহমানকে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং কলম দিয়ে লিখে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে দুই পাতার লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন। ফজলুর পরিবার তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: ২০টির বেশি আঘাতের ক্ষত, এজাহারে ৪ জনের নাম, ক্যাম্পাসে উত্তাল বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ২০টির বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গভীর ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিনভর উত্তাল ছিল ইবি ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে, নিহত শিক্ষিকার স্বামী ৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকও রয়েছেন।

২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন, নেপথ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আসমা সাদিয়া রুনার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার নিচে সজোরে আঘাত করা হয়েছে, যা তার মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বুক, পেট, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টির বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তি হয়েছিল এবং বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে তার হাতেও আঘাত লাগে। আঘাতের গভীরতা ও সংখ্যা দেখে এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং চরম বিদ্বেষপ্রসূত বলে মনে করা হচ্ছে।

৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার, দুজন শিক্ষকও অভিযুক্ত
নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বুধবার গভীর রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে মূল অভিযুক্ত করে আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য তিনজন হলেন—সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। কুষ্টিয়া পুলিশের মুখপাত্র ফয়সাল মাহমুদ এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন।

আর্থিক দ্বন্দ্ব ও শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগ
রুনার মামা সাইফুল ইসলাম জানান, ফজলুর রহমান নিহত শিক্ষিকাকে বিভাগের বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে চাপ দিতেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো ইন্ধন থাকতে পারে এবং কয়েকজন শিক্ষকও জড়িত। রুনার ভাই আবদুর রশিদ ও শফিকুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। রুনার ছোট ছোট চারটি সন্তান, যাদের মধ্যে দেড় বছরের শিশুটিও জানে না তার মা আর নেই। তারা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

উত্তাল ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি
শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তাল ছিল ইবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দ্রুত হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের দাবি জানান তারা। ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্মার্ট আইডি ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখার দাবি জানান। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, একজন কর্মচারী কতটা উগ্র হলে একজন শিক্ষককে এভাবে হত্যা করতে পারে, তা অকল্পনীয়।

দাফন সম্পন্ন, এমপি’র সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে শিক্ষিকা রুনার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এমন ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

আহত ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে, গত বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের পর একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে ফজলুর রহমান কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের আরএমও হোসেন ইমাম জানান, ফজলুর রহমানকে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং কলম দিয়ে লিখে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে দুই পাতার লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন। ফজলুর পরিবার তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।