চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে ভুক্তভোগীর আপন বড় বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বুধবার মতলব উত্তর থানা পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মতলব উত্তর উপজেলার পশ্চিম হানিরপাড়ের মো. কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং একই গ্রামের মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮)। কাইয়ুম কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের একটি নির্দিষ্ট তারিখে কাইয়ুম, অপর অভিযুক্ত তানিয়া আক্তারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। চিকিৎসা প্রতিবেদনে ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়, যা সবাইকে হতবাক করে দেয়।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আপন বড় বোনই তার ছোট বোনের ওপর এ জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























