ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

চিকিৎসক সংকটে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: রোগীদের চরম ভোগান্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, পদ শূন্যতা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং আবাসন সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৩৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ছয়জন কনসালট্যান্ট ও ১১ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যকে বিদ্যমান সমস্যাগুলো অবহিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায়, স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সহকারী সার্জন ও ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্মরত ডা. আদনিন মওরিন প্রায় ছয় মাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। একইভাবে ডা. আফসানা জেরীন প্রায় ৯ মাস ধরে সংযুক্তিতে চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. অনিতা দাস গুপ্ত দুই মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণে কুমিল্লা বার্ড ইনস্টিটিউটে এবং ডা. শেগুফতা মিশকাত মোকাররমা প্রায় এক বছর ছয় মাস ধরে সংযুক্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। এছাড়াও, কয়েকজন চিকিৎসক বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে আবাসন সংকটও প্রকট। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবন সীমান্তে বিএসএফের পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির কড়া নজরদারি

চিকিৎসক সংকটে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: রোগীদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, পদ শূন্যতা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং আবাসন সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৩৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ছয়জন কনসালট্যান্ট ও ১১ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যকে বিদ্যমান সমস্যাগুলো অবহিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায়, স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সহকারী সার্জন ও ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্মরত ডা. আদনিন মওরিন প্রায় ছয় মাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। একইভাবে ডা. আফসানা জেরীন প্রায় ৯ মাস ধরে সংযুক্তিতে চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. অনিতা দাস গুপ্ত দুই মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণে কুমিল্লা বার্ড ইনস্টিটিউটে এবং ডা. শেগুফতা মিশকাত মোকাররমা প্রায় এক বছর ছয় মাস ধরে সংযুক্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। এছাড়াও, কয়েকজন চিকিৎসক বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে আবাসন সংকটও প্রকট। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।