নিজেদের জাতীয় গৌরবের ত্রাণকর্তা হিসেবে দাবি করা দুই প্রভাবশালী নেতা এক জটিল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে জয়ী হওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তবে এই সংকট থেকে তারা কীভাবে বের হবেন, তা নিয়েও তারা দ্বিধায় রয়েছেন। নিজেদের অভ্রান্ত ভাবার এক ধরনের অন্ধ বিশ্বাস তাদের কৌশলগত ভুল স্বীকার করতে বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তবে উভয় দেশের শাসনব্যবস্থা এবং সংঘাতের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বিদ্যমান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভ দখলের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ এখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। পুতিনের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের সামান্য অংশ দখল করতে পারলেও সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে না। এই যুদ্ধ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন রুবল এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিলেও জাতীয় গৌরবের কোনো দৃশ্যমান সুফল বয়ে আনেনি।
ক্রেমলিনের প্রচারযন্ত্রের পক্ষে এই ব্যর্থতা লুকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফ্রন্টলাইন থেকে শত শত মাইল দূরে থাকা বেসামরিক নাগরিকেরা ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে তেল শোধনাগার থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়তে দেখছেন। তারা মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিজেদের মজুরি কমে যাওয়া টের পাচ্ছেন। এমনকি গত মাসের ‘বিজয় দিবস’-এর প্যারেডও ছিল অস্বাভাবিক রকমের সাদামাটা। ইউক্রেনীয় বিমান হামলার আশঙ্কায় রেড স্কয়ারের আকাশে এবার ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঐতিহ্যবাহী মহড়া চালানো যায়নি।
সরকারি জনমত জরিপেও পুতিনের প্রতি সমর্থনের ঘাটতি দেখা গেছে, যা পরে ‘পদ্ধতিগত’ সংশোধনের মাধ্যমে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পুতিন এই যুদ্ধকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখেন, ফলে স্বাধীন দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সমপর্যায়ে আলোচনায় বসা তার জন্য সহজ নয়।
অন্যদিকে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনীর চেয়ে সেলিব্রিটিসুলভ অহংবোধে বেশি তাড়িত হলেও এর প্রভাব একই রকম। তিনি পুতিনের মতোই মনে করেন যে শক্তিশালী দেশের স্বার্থের কাছে ক্ষুদ্র প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের কোনো মূল্য নেই। তিনি মনে করেন ইউক্রেনের জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। একইভাবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং অন্যান্য সূত্র থেকেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
রিপোর্টারের নাম 























